‘বাঁচবে ছোট্ট ঋত্বি!’ জনতা দরবারে কেঁদে ভাসাল মা-বাবা, বড় আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর

‘বাঁচবে ছোট্ট ঋত্বি!’ জনতা দরবারে কেঁদে ভাসাল মা-বাবা, বড় আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর

সল্টলেকের জনতা দরবারে উঠে এল এক অত্যন্ত হৃদয়বিদারক দৃশ্য। বেলঘরিয়ার মাত্র ৬ মাসের শিশু ঋত্বি ঘোষের বিরল চিকিৎসায় সাহায্যের আবেদন জানাতে হাজির হয়েছিলেন তার অসহায় মা-বাবা। সেই আকুল আর্জি শুনে তাৎক্ষণিক সহায়তার আশ্বাস দিয়ে ফের রাজ্যবাসীর মন জয় করে নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

কী ঘটেছে? বেলঘরিয়ার বাসিন্দা সুপ্রিয় ও কোয়েল ঘোষের ৬ মাসের শিশুপুত্র ঋত্বি এক বিরল স্নায়ুরোগ ‘স্পাইনাল মাসকুলার অ্যাট্রোফি’ (SMA) টাইপ-১-এ আক্রান্ত। জন্মের পর থেকেই শিশুটির হাত-পা নাড়াচাড়ায় মারাত্মক সমস্যা দেখা দেয়। মাত্র ৩ মাস বয়সে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর এই মারণ রোগ ধরা পড়ে। বর্তমানে পিয়ারলেস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুটিকে বাঁচাতে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজন বিশেষ জিন থেরাপি, যা আমেরিকা থেকে আনতে খরচ হবে প্রায় ১৭ কোটি টাকা!

জনতা দরবারে মানবিক পদক্ষেপ সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের সাধ্যের অতীত এই বিপুল খরচের বোঝা মাথায় নিয়ে দিশেহারা বাবা-মা শেষ ভরসা হিসেবে পৌঁছান মুখ্যমন্ত্রীর জনতা দরবারে। অসহায় পরিবারের কথা শুনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তার পূর্ণ আশ্বাস দেন। শুধু তাই নয়, মানবিক নজির গড়ে মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরের এক আধিকারিকও শিশুটির চিকিৎসার সুবিধার্থে নিজের এক মাসের পুরো বেতন দান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

আগেও পাশে ছিলেন শুভেন্দু উল্লেখ্য, বিরোধী দলনেতা থাকাকালীনও রানাঘাটের জটিল রোগে আক্রান্ত খুদে অস্মিকার চিকিৎসার জন্য ব্যক্তিগতভাবে ১০ লক্ষ টাকার সাহায্য তুলে দিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী, যা নেটপাড়ায় ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছিল। এবার মুখ্যমন্ত্রী পদে থেকে ফের এক শিশুর জীবন বাঁচাতে এগিয়ে এলেন তিনি।

সাধারণ মানুষের কাছে আতি আকুল আবেদন মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাসে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছে ঋত্বির পরিবার। শিশুটির মা কোয়েল ঘোষ জানান, “এত বড় অঙ্কের টাকা আমাদের পক্ষে জোগাড় করা আসাম্ভব ছিল। মুখ্যমন্ত্রীর অভয়ে আমরা অনেকটাই ভরসা পাচ্ছি।” তবে আমেরিকা থেকে ওষুধ আনা ও চিকিৎসার সার্বিক খরচ বহনে মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছেও মুক্তহস্তে সাহায্যের আকুল আবেদন জানিয়েছেন শিশুটির বাবা-মা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *