টেলিগ্রামে ‘পূর্ব আকাশ’! ৩ রাজ্যে NIA-র মেগা অভিযান, গ্রেফতার ১৩ জঙ্গি সন্দেহভাজন

বাংলা ও উত্তর-পূর্ব ভারতে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন ‘জমাাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ’ (JMB)-এর নতুন জঙ্গি চক্রান্তের পর্দাফাঁস করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬) পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও কেরালার মোট ১৬টি আস্তানায় একযোগে জোড়দার তল্লাশি অভিযান চালিয়ে ১৩ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা।
কোথা থেকে কতজন গ্রেফতার? এনআইএ সূত্রের খবর, ধৃত ১৩ জনের মধ্যে ৮ জনকে আসাম, ৪ জনকে পশ্চিমবঙ্গ এবং ১ জনকে কেরালা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তল্লাশিতে ধৃতদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন, পেন ড্রাইভ ও মেমরি কার্ড সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল সরঞ্জাম বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
টেলিগ্রাম গ্রুপ ‘পূর্ব আকাশ’ ও মগজধোলাইয়ের ছক: তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। বাংলাদেশে বসে ‘ইমাম মাহমুদের কাফিলা’ (IMK) নামক সংগঠনের হ্যান্ডলাররা “পূর্ব আকাশ” নামের একটি গোপন টেলিগ্রাম গ্রুপের মাধ্যমে ভারতে উগ্রপন্থী ভাবধারা প্রচার ও তরুণদের মগজধোলাই করত। নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবি-র প্রবীণ সদস্য ইমাম মাহমুদ হাবিবুল্লাহ ভারতীয় ভূখণ্ডে উগ্রপন্থী মতাদর্শ ছড়ানো এবং নেটওয়ার্ক বাড়াতে এই আইএমকে (IMK) সংগঠনটি গড়ে তোলে।
অভিযুক্তরা গোপনে বৈঠক, ধর্মীয় কট্টরপন্থী কর্মসূচী পরিচালনা, উগ্রপন্থী সাহিত্য প্রচার এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ভারতবিরোধী অপপ্রচার চালাচ্ছিল।
মামলার প্রেক্ষাপট: ঘটনার সূত্রপাত গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর (২০২৫), যখন আসাম, পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরা থেকে ১১ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে আসাম পুলিশ। পরবর্তীতে ৩০ ডিসেম্বর ৩০৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে তদন্তের সম্পূর্ণ ভার নিজেদের হাতে নেয় এনআইএ। গত ২৫ জুন ২০২৬ তারিখে ১১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়। পরবর্তীতে গুয়াহাটির বিশেষ এনআইএ আদালতে বিএনএস ২০২৩ ও ইউএ (পি) আইনের অধীনে নতুন করে চার্জশিট দাখিল করে তদন্ত এগোনো হয়।
পলাতক আরও ১০ জন: এনআইএ জানিয়েছে, এই আন্তর্জাতিক জঙ্গি চক্রের মূল উপড়ে ফেলতে মামলা নম্বর RC-01/2026/NIA/GUW-র অধীনে তদন্ত দ্রুত গতিতে চলছে। বর্তমানে এই মামলায় ১০ জন অভিযুক্ত পলাতক রয়েছে, যাদের মধ্যে ১ জন ভারতীয় এবং ৯ জন বাংলাদেশী নাগরিক। তাদের সন্ধানে অভিযান জারি রেখেছে গোয়েন্দারা।