১৭ কোটির জিন থেরাপি! ৬ মাসের শিশুর জীবন বাঁচাতে আকুল আকুতি, সল্টলেকে মিলল মানবিক আশ্বাস

১৭ কোটির জিন থেরাপি! ৬ মাসের শিশুর জীবন বাঁচাতে আকুল আকুতি, সল্টলেকে মিলল মানবিক আশ্বাস

সল্টলেক: বিরল ও জটিল জিনগত রোগে আক্রান্ত বেলঘরিয়ার মাত্র ছয় মাসের শিশুপুত্র ঋত্বি ঘোষ। তাকে বাঁচাতে অবিলম্বে প্রয়োজন প্রায় ১৭ কোটি টাকার বিশেষ ‘জিন থেরাপি’। মধ্যবিত্ত পরিবারের সাধ্যের বাইরে থাকা এই বিপুল খরচের বোঝা বইতে না পেরে অবশেষে সল্টলেকের জনতা দরবারে উপস্থিত হলেন অসহায় বাবা-মা। সেখানে উঠে এল এক মর্মান্তিক অথচ মানবিকতার নজির গড়া দৃশ্য।

কী এই বিরল রোগ? বেলঘরিয়ার বাসিন্দা সুপ্রিয় ঘোষ ও কোয়েল ঘোষ জানান, জন্মের পর থেকেই সন্তান ঋত্বির হাত-পা নাড়াতে চরম সমস্যা হচ্ছিল। চিকিৎসকদের পরামর্শে একাধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর মাত্র তিন মাস বয়সে ধরা পড়ে শিশুটি ‘স্পাইনাল মাসকুলার অ্যাট্রোফি’ (SMA) টাইপ-১ নামের মারণ স্নায়ুরোগে আক্রান্ত। বর্তমানে পিয়ারলেস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ছোট্ট ঋত্বি। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশুটির জীবন বাঁচাতে আমেরিকা থেকে বিশেষ জিন থেরাপির ইনজেকশন আনা জরুরি, যার খরচ আনুমানিক ১৭ কোটি টাকা।

আশার আলো ও মানবিকতার অনন্য নজির সন্তানকে বাঁচানোর শেষ চেষ্টা হিসেবে দিশেহারা পরিবার সল্টলেকে মুখ্যমন্ত্রীর জনতা দরবারে আবেদন নিয়ে পৌঁছায়। পরিবারের কথা শুনে সরকারের তরফে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তার পূর্ণ আশ্বাস দেওয়া হয়। শুধু আশ্বাসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি এই বার্তা; মানবিক নজির গড়ে মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের এক আধিকারিক শিশুটির চিকিৎসার জন্য নিজের এক মাসের সম্পূর্ণ বেতন তুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, এর আগেও বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন রানাঘাটের জটিল রোগে আক্রান্ত শিশু অস্মিকার চিকিৎসার জন্য ব্যক্তিগতভাবে ১০ লক্ষ টাকার আর্থিক সাহায্য তুলে দেওয়া হয়েছিল। এবার প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে ফের এমন মানবিক পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাসে আলো দেখছে রাজ্যবাসী।

সাধারণ মানুষের কাছে আতি আকুল আবেদন সরকারি সহায়তার আশ্বাসে কিছুটা হলেও স্বস্তি পেয়েছেন ঋত্বির মা কোয়েল ঘোষ। তিনি বলেন, “আমাদের পক্ষে এই বিপুল অর্থ জোগাড় করা একেবারেই আসাম্ভব ছিল। পাশে থাকার আশ্বাস পেয়ে কিছুটা হলেও ভরসা পাচ্ছি।” তবে আমেরিকা থেকে জরুরি এই জীবনদায়ী ওষুধ আনার আইনি ও আর্থিক প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে দেশের সমস্ত সহৃদয় মানুষের কাছেও মুক্তহস্তে সাহায্যের আকুল আবেদন জানিয়েছেন শিশুর বাবা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *