‘জামাই আদর শেষ, ঘাড় ধরে বার করা হবে!’ জঙ্গি ও অনুপ্রবেশ ইস্যুতে বিস্ফোরক দেবজিৎ সরকার

রাজ্য জুড়ে জঙ্গি সংগঠন ‘ইমাম মাহমুদের কাফেলা’র স্লিপার সেলের খোঁজে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)-র তল্লাশি ও চারজনকে গ্রেফতারির ঘটনা ঘিরে উত্তপ্ত রাজ্যের রাজনৈতিক মহল। এই ইস্যুতে সাংবাদিক সম্মেলন করে এনআইএ হানার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরার পাশাপাশি অনুপ্রবেশকারী ও স্লিপার সেল নিয়ে চরম হুঁশিয়ারি দিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি দেবজিৎ সরকার।
‘আগে পেত জামাই আদর, এবার রাজ্য ছাড়া’ সাংবাদিক সম্মেলনে দেবজিৎ সরকার দাবি করেন, রাজ্যে এনআইএ-র এই তল্লাশি অভিযান অত্যন্ত জরুরি ছিল। বহু জায়গায় বাংলাদেশি জঙ্গি ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীরা ডেরা বেঁধেছে। মঙ্গলকোট এলাকা থেকে জঙ্গি সন্দেহে এক ইমামকে আটকের প্রসঙ্গ তুলে তিনি জানান, তাঁর কাছ থেকে বেশ কিছু ডায়েরি ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রমাণ মিলেছে।
পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তৎকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনে সীমান্ত যথাযথ ফেন্সিং না থাকায় পশ্চিমবঙ্গকে ‘সেফ প্যাসেজ’ বানিয়ে সারা ভারতে জঙ্গিরা ছড়িয়ে পড়ত এবং এখানে ‘জামাই আদর’ পেত।
বিএসএফ-কে জমি ও অনুপ্রবেশকারীদের পলায়ন রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে দেবজিৎবাবু জানান, নতুন সরকার আসার এক মাসের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারী সীমান্ত সুরক্ষায় বিএসএফ-এর কাছে দ্রুত জমি হস্তান্তর করেন। বিএসএফ সক্রিয় হতেই রাজারহাট, গুলশন কলোনি কিংবা শিলিগুড়ির মহানন্দা নদীর তীরের অবৈধ কলোনিগুলো ছেড়ে বহু অনুপ্রবেশকারী পালিয়ে যেতে শুরু করেছে।
স্লিপার সেল ও সাধারণ মানুষের জন্য বার্তা রাজ্যে এখনও থেকে যাওয়া অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের উদ্দেশ্যে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে দেবজিৎবাবু বলেন, “যারা এখনও রয়ে গেছে, তাদেরকেও ঘাড় ধরে বার করে দেওয়া হবে। এখানে বসে জঙ্গি হামলা বা স্লিপার সেল হিসেবে কাজ করার চেষ্টা করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” পাশাপাশি, আশপাশে যেকোনো অসংলগ্ন বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড চোখে পড়লে সাথে সাথে স্থানীয় থানায় জানানোর জন্য সাধারণ রাজ্যবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
তোলাবাজি ও ‘নব্য বিজেপি’ প্রসঙ্গে জিরো টলারেন্স দলের নাম ভাঙিয়ে চাঁদা আদায় বা তোলাবাজির অভিযোগ প্রসঙ্গেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি। তিনি সাফ জানান, ‘নব্য বিজেপি’ বা অন্য কোনো কর্মীর বিরুদ্ধে যদি তোলাবাজির অভিযোগ থাকে, দল তাকে কোনো ধরনের আইনি বা রাজনৈতিক সুরক্ষা (Political Immunity) দেবে না। এলাকার ক্লাব কিংবা সাধারণ মানুষ—যে কারও সাথে এমন ঘটলে সরাসরি থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।