বন্দুকের বাট দিয়ে মাথায় মার, ভেঙে নিয়ে গেল CCTV! হরিদেবপুরে অজেয় সংহতি ক্লাবে দুষ্কৃতী তাণ্ডব

বন্দুকের বাট দিয়ে মাথায় মার, ভেঙে নিয়ে গেল CCTV! হরিদেবপুরে অজেয় সংহতি ক্লাবে দুষ্কৃতী তাণ্ডব

কলকাতা: দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি যখন শহরজুড়ে তুঙ্গে, ঠিক তখনই কলকাতার হরিদেবপুরে ঘটল এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। মাঝরাতে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে প্যান্ডেলে চড়াও হয়ে তাণ্ডব চালাল একদল দুষ্কৃতী। এই ঘটনায় চরম আতঙ্কে হরিদেবপুরের অজেয় সংহতি ক্লাবের সদস্য ও প্যান্ডেলের কারিগররা। অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে ক্লাবের ৬৬ বছরের পুরোনো এই ঐতিহ্যবাহী দুর্গাপুজো।

মাঝরাতের তাণ্ডব ও CCTV লোপাট স্থানীয় ও ক্লাব সূত্রে জানা গিয়েছে, রাত ১২টা নাগাদ প্রায় ১০ থেকে ১৫ জন সশস্ত্র যুবক আচমকাই মণ্ডপ নির্মাণ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে। অভিযোগ, তারা আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে তাণ্ডব চালাতে শুরু করে। অপরাধের প্রমাণ মুছে ফেলতে দুষ্কৃতীরা মণ্ডপে থাকা দুটি সিসিটিভি (CCTV) ক্যামেরা ভেঙে ফেলে এবং সঙ্গে করে রেকর্ডিং বাক্সটি (DVR) নিয়ে চম্পট দেয়।

রক্তাক্ত ক্লাব সদস্য, রাজনৈতিক আক্রোশের অভিযোগ ঘটনার সময় মণ্ডপ প্রাঙ্গণে রাতের খাবারের আয়োজন চলছিল। হামলা চলাকালীন বাধা দিতে গেলে অরিজিৎ নন্দী নামে ক্লাবের এক সদস্যের মাথায় বন্দুকের বাট দিয়ে সজোরে আঘাত করা হয়। গুরুতর আহত হন তিনি। অরিজিৎবাবু এলাকায় তৃণমূল কর্মী হিসেবে পরিচিত। ক্লাবের একাংশের দাবি, কিছুদিন আগে বিজেপির কয়েকজন সদস্য তাঁর সঙ্গে দেখা করার প্রস্তাব দিলেও তিনি তাতে সাড়া দেননি। সেই আক্রোশ থেকেই এই হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে বলে অভিযোগ।

আশঙ্কায় আয়োজক ও কারিগররা অজেয় সংহতি ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক পীযূষ হালদার ও সংগঠক প্রীতম সাহা জানান, মাঝরাতের এই প্রাণঘাতী হুমকির পর মণ্ডপের শিল্পীরা চরম ভয়ে দিন কাটাচ্ছেন। পুলিশকে খবর দেওয়া হলেও শুরুতে উপযুক্ত সুরক্ষাবলয় মেলেনি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন আয়োজকরা। প্রশাসন পর্যাপ্ত নিরাপত্তার আশ্বাস না দিলে পুজো কীভাবে সম্ভব, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।

বর্তমানে স্থানীয় পুলিশ গোটা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে। রাজনৈতিক বৈরিতা নাকি এর পেছনে ব্যক্তিগত কোনো শত্রুতা রয়েছে—সব দিকই খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *