‘জরুরি শুনানি নয়, সোমবার!’ সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা রাজ্যের, নন্দীগ্রামে ভোটের মুখে বড় স্বস্তি মিলনের

‘জরুরি শুনানি নয়, সোমবার!’ সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা রাজ্যের, নন্দীগ্রামে ভোটের মুখে বড় স্বস্তি মিলনের

নন্দীগ্রাম: হাইভোল্টেজ নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের ঠিক আগেই বড় ধাক্কা খেল রাজ্য সরকার। কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের অন্তর্বর্তী জামিন বাতিল করতে সুপ্রিম কোর্টে জরুরি শুনানির আবেদন জানিয়েছিল রাজ্য। তবে সেই আবেদন নাকচ করে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ সাফ জানিয়ে দিল—‘না, শুনানি হবে আগামী সোমবার।’

ফলাফল, ভোটের ঠিক মুখে এবং প্রচারের শেষ মুহূর্তে সশরীরে ময়দানে নেমে প্রচার চালাতে মিলন প্রধানের আর কোনো আইনি বাধা রইল না।

সুপ্রিম কোর্টে কী ঘটল? কলকাতা হাইকোর্টের জামিনের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল রাজ্য। বুধবার আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আবেদন জানান, বৃহস্পতিবারই যেন মামলার জরুরি শুনানি করা হয়। কিন্তু প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত সেই আর্জি নাকচ করে বলেন, “মামলার নিষ্পত্তি হবে, তবে আগামীকাল নয়, সোমবার।” সলিসিটর জেনারেল পুনরায় বৃহস্পতিবারের আর্জি জানালে প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “না, সোমবার।”

রাজনৈতিক তাৎপর্য আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন এবং প্রচার শেষ হচ্ছে ৪ অক্টোবর। সুপ্রিম কোর্ট মামলার শুনানি ৫ অক্টোবরে (সোমবার) স্থির করায়, পুরো প্রচার পর্ব জুড়েই জেলের বাইরে থাকছেন মিলন। ফলে সরাসরি নন্দীগ্রামের মাটিতে নেমে নির্বাচনী লড়াই চালানোর রসদ পেয়ে গেলেন কংগ্রেস প্রার্থী।

হাইকোর্টের রায় ও মামলার প্রেক্ষাপট মঙ্গলবারই কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের বেঞ্চ মিলন প্রধানকে শর্তসাপেক্ষে অন্তর্বর্তী জামিন দেয়। ২০ অক্টোবর পর্যন্ত সমস্ত মামলায় ২৫ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে এই জামিন মঞ্জুর করা হয়। তবে হাইকোর্টের কিছু শর্ত রয়েছে:

  • নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ হতেই তাঁকে হলদিয়া আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে।
  • প্রচার চলাকালীন প্রতিদিন দু’বার করে পুলিশকে ফোনে নিজের আপডেট দিতে হবে।

নন্দীগ্রামে তৃণমূল সমর্থিত কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে মিলন প্রধানের নাম ঘোষণার পর থেকেই একের পর এক পুরোনো মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছিল বলে পরিবারের অভিযোগ। হাইকোর্টের পর এবার সুপ্রিম কোর্টেও রাজ্যের জরুরি আবেদনের ধাক্কা নিঃসন্দেহে ভোটের ঠিক আগে মিলন প্রধান ও তাঁর শিবিরকে বড়সড় স্বস্তি দিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *