‘ভাগ্যিস সময় থাকতে চলে গিয়েছিলেন!’ নীতীশকে নিয়ে সনিয়ার বিস্ফোরক মন্তব্য, সরগরম হাত শিবির

‘ভাগ্যিস সময় থাকতে চলে গিয়েছিলেন!’ নীতীশকে নিয়ে সনিয়ার বিস্ফোরক মন্তব্য, সরগরম হাত শিবির

নয়াদিল্লি: ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে নীতীশ কুমারের ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোট ত্যাগ নিয়ে এখনও কাটেনি ধোঁয়াশা। এমনকি ২০২৬ সালে এসেও তা নিয়ে মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং সনিয়া গান্ধীর দলের অন্দরেই শুরু হলো তীব্র বিতর্ক। কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির (CWC) বৈঠকে প্রবীণ নেতা দিগ্বিজয় সিংয়ের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রীতিমতো মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়ে গেলেন শীর্ষ নেতৃত্ব।

দিগ্বিজয়ের আফসোস ও আত্নসমালোচনা

বৈঠকে মধ্যপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী দিগ্বিজয় সিং দাবি করেন, ২০২৩ সালে বিরোধী জোট গঠনের সময় বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারকে যদি আরও গুরুত্ব দেওয়া হতো, তবে জাতীয় রাজনীতির ছবিটা অন্যরকম হতে পারত। নীতীশের ইচ্ছা ছিল ‘ইন্ডিয়া’ জোটের আহ্বায়ক হওয়া। দিগ্বিজয়ের মতে, নীতীশকে সে সময় সঠিক সম্মান দিয়ে জোটে ধরে রাখতে পারলে ২০২৪-এর নির্বাচনের ফল অন্যরকম হতো এবং নীতীশকে এনডিএ (NDA) শিবিরের দিকে যেতে দেওয়া মোটেও সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল না।

সনিয়া গান্ধীর কড়া জবাব

দিগ্বিজয়ের এই বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেন কংগ্রেসের প্রাক্তন সভানেত্রী সনিয়া গান্ধী। সূত্রের খবর, অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় তিনি বলেন, “ঈশ্বরকে ধন্যবাদ যে নীতীশ কুমার সময় থাকতে জোট ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন।” নীতীশকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবে বর্ণনা করে সনিয়া অভিযোগ করেন, নীতীশ অনেক আগে থেকেই জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পথ ও বাহানা খুঁজছিলেন। তিনি শেষ পর্যন্ত সেখানেই গেছেন, যেখানে তাঁর যাওয়ার কথা ছিল।

খাড়গের সায় ও পুরোনো ইতিহাস

কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেও সনিয়া গান্ধীর বক্তব্য সমর্থন করেন। তিনি জানান, নীতীশ কুমার লোক দেখানোর জন্য আহ্বায়ক পদের অজুহাত দিচ্ছিলেন এবং মুখে বলছিলেন যে তিনি শুধু বিহারের রাজনীতিতেই মনোযোগ দিতে চান। কিন্তু ভেতরে ভেতরে তিনি আগেই জোট ছাড়ার ছক কষে ফেলেছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে পাটনায় বিজেপি-বিরোধী ঐক্যের সলতে পাকানোর মূল কারিগর ছিলেন নীতীশ কুমারই। কিন্তু ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে আচমকাই তিনি আরজেডি-কংগ্রেসের মহাজোট ভেঙে বের হয়ে আসেন এবং বিজেপির সমর্থনে পুনরায় বিহারের মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেন। পুরোনো সেই ঘটনা ঘিরে এবার হাত শিবিরের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য ফের প্রকাশ্যে এলো।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *