‘ভাবছিলাম এনকাউন্টার করে দেবে!’ জামিন পেয়েই বিস্ফোরক নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী
উপনির্বাচনের মুখে নন্দীগ্রামে চড়ল রাজনীতির পারদ। ১৯ বছরের পুরনো একটি মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার ১৩ দিন পর, কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে অন্তর্বর্তী জামিনে মুক্তি পেলেন নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান। বুধবার হলদিয়া জেল থেকে বেরোনোর পরেই শাসকদল ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
জেলের বাইরে উষ্ণ অভ্যর্থনা বুধবার হলদিয়া জেলের বাইরে মিলন প্রধানকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারসহ বহু দলীয় কর্মী-সমর্থক। ‘বন্দে মাতরম্’ ধ্বনির মধ্য দিয়ে তাঁকে পুষ্পস্তবক ও মালা পরিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। জামিন পাওয়ার পর মিলন প্রধান স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সময় নষ্ট না করে আজ থেকেই তিনি পুরোদমে নির্বাচনী প্রচারে নামছেন।
‘চোখে গামছা বেঁধে হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়’ জেল থেকে বেরিয়েই পুলিশের বিরুদ্ধে অপহরণ ও ভয় দেখানোর গুরুতর অভিযোগ এনেছেন মিলন প্রধান। তাঁর দাবি:
- চণ্ডীপুরে বিশ্রাম নেওয়ার সময় সিভিল ড্রেসে আসা কয়েকজন পুলিশকর্মী তাঁকে জোর করে গাড়িতে তুলে নেয়।
- রাস্তায় তাঁর চোখে গামছা বেঁধে একটি হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়।
- সেখানে লিফটে করে ওপরে তুলে তাঁর ওপর মনোনয়ন তুলে নেওয়ার জন্য প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করা হয়।
- মিলন প্রধানের কথায়, “আমাকে বলা হয়েছিল মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে। কিন্তু আমি রাজি হইনি। একদিন তো মরতেই হবে! তবে ওই মুহূর্তে ভেবেছিলাম, আমাকে হয়তো এনকাউন্টারই করে দেবে।”
আইনি যুদ্ধ ও উপনির্বাচন আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। তার ঠিক আগেই মিলনের এই জামিন কংগ্রেস শিবiren বড় স্বস্তি।
- হাইকোর্টের নির্দেশ: ২১ অক্টোবর পর্যন্ত অন্তর্বর্তী জামিন পেয়েছেন মিলন প্রধান। ওই দিন তাঁকে আবার আত্মসমর্পণ করতে হবে।
- সুপ্রিম কোর্টের অবস্থান: মিলন প্রধানের জামিন খারিজ করতে রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেও প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আবেদন নাকচ করে দিয়েছে। আগামী সোমবার এই মামলার পরবর্তী শুনানি।
তবে সমস্ত বাধা পেরিয়ে নন্দীগ্রামের মানুষ যে ‘শিরদাঁড়া সোজা রেখে’ ভোটবাক্সেই এর জবাব দেবে—এমনটাই দাবি কংগ্রেস প্রার্থীর।