মোবাইলে স্ক্র্যাচ পড়তেই তাণ্ডব! ১৯ সেকেন্ডে খুদে সন্তানকে ১২টি চড় মায়ের

ফরিদাবাদ: সামান্য একটা মোবাইল ফোন, আর তার স্ক্রিনে সামান্য একটি আঁচড় পড়তেই হিতাহিত জ্ঞান হারালেন মা! ৬ বছরের কন্যাসন্তান আর ৪ বছরের অবোধ ছেলেকে ১৯ সেকেন্ডে পরপর ১২টি থাপ্পড় মারার অভিযোগ উঠল নিজের মায়ের বিরুদ্ধে। হাড়হিম করা এই ঘটনার জেরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে হরিয়ানার ফরিদাবাদের পর্বতীয়া কলোনি এলাকায়। পুরো তাণ্ডবের বীভৎস দৃশ্য ধরা পড়েছে বাড়ির সিসিটিভি (CCTV) ক্যামেরায়।
ঠিক কী ঘটেছিল? ঘটনার সময় বাড়িতে দুই সন্তানকে নিয়ে একাই ছিলেন সনিয়া সিং নামে ওই মহিলা। ২০১৯ সালে ভারতীয় সেনাবাহিনীর জওয়ান সতবীর সিংয়ের সঙ্গে বিয়ে হয় তাঁর। স্বামী বর্তমানে রাজস্থানে কর্মরত। ঘটনার দিন শ্বশুর বিষাণ সিং স্ত্রীকে নিয়ে নুহেরে গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলেন।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সিঁড়ির পাশে দাঁড়িয়ে সনিয়া এবং পাশেই খেলছিল তাঁর দুই শিশু। হঠাৎই মোবাইলের স্ক্রিনে আঁচড়ের দাগ নজরে আসতেই মারমুখী হয়ে ওঠেন সনিয়া। মুহূর্তের মধ্যে ৬ বছরের মেয়েকে চুলের মুঠি ধরে একের পর এক থাপ্পড় মারতে শুরু করেন। মায়ের এমন রুদ্রমূর্তি দেখে ভয়ে কেঁদে ফেলে খুদে মেয়েটি। এরপর রেহাই পায়নি ৪ বছরের একরত্তি ছেলেও; তাকেও ধরে বেধড়ক মারধর করেন সনিয়া।
প্রতিবেশীর তৎপরতায় রক্ষা বাচ্চাদের আর্ত চিৎকার শুনে বাড়িতে ছুটে আসেন এক প্রতিবেশী যুবক। তিনিই দ্রুত এগিয়ে এসে দুই খুদেকে সনিয়ার হাত থেকে উদ্ধার করেন বলে জানান শ্বশুর বিষাণ সিং।
পুলিশি পদক্ষেপ ও স্বামীর ক্ষোভ ঘটনার পর সনিয়ার শ্বশুর বিষাণ সিং পর্বতীয়া কলোনি পুলিশ ফাঁড়িতে বধূ নির্যাতন ও শিশু নির্যাতনের অভিযোগ দায়ের করেছেন। রাজস্থানে কর্মরত স্বামী সতবীরও স্ত্রীর বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপের দাবি তুলেছেন। সতবীরের অভিযোগ, “এটাই প্রথম নয়, এর আগেও বাচ্চাদের ওপর বহুবার অত্যাচার চালিয়েছেন সনিয়া। পরিবারের কেউ প্রতিবাদ করলে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দিতেন তিনি।”
পর্বতীয়া কলোনি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মহেশ জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।