“পুজো কারও একার নয়!” সুজিত-জমানা ভুলে বড় সিদ্ধান্ত শ্রীভূমি স্পোর্টিংয়ের

শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাবের দুর্গাপুজো মানেই প্রতিবার নতুন চমক। তবে এবারের জমানা একটু আলাদা। রাজনৈতিক ও সামাজিক পটপরিবর্তনের পর সুজিত বসুকে ছাড়াই নতুন উদ্যমে পুজোর প্রস্তুতি শুরু করেছে শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাব। তবে এই আবহেই এক চমকপ্রদ দৃশ্যের সাক্ষী রইল বিধাননগর। প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেন রাজ্যের বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী তথা বিধাননগরের বিধায়ক ডা: শারদ্বত মুখার্জি। অন্যদিকে, পুজো কমিটি অবশ্য স্পষ্ট জানিয়ে দিল— শ্রীভূমির পুজো ব্যক্তিভিত্তিক নয়, বরং সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফসল।
সোমবার শ্রীভূমির পুজো উদ্যোক্তাদের এক আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন শারদ্বত মুখার্জি। সেখানে মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, “সুজিত বসু আমার রাজনৈতিক বিরোধী দলের সদস্য হতে পারেন, তাই বলে তাঁর কাজকে ছোট করা যায় না। শ্রীভূমির পুজোকে তিনি যে উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছেন, তা তাঁর অনন্য সাংগঠনিক দক্ষতারই পরিচয়।” রাজনৈতিক ভিন্নমত থাকা সত্ত্বেও প্রকাশ্যে প্রাক্তন বিধায়ককে কুর্নিশ জানান তিনি।
তবে বর্তমান মন্ত্রীর এই মন্তব্যের সঙ্গে পুরোপুরি একমত হতে পারেননি বিজেপি নেতা তথা শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বাবুয়া চ্যাটার্জি। তিনি দাবি করেন, “শ্রীভূমির মতো বিশাল পুজো কোনও এক ব্যক্তির কৃতিত্বে গড়ে ওঠেনি। ক্লাবের সাধারণ সদস্য, চাঁদা সংগ্রহকারী এবং এলাকার মানুষের অক্লান্ত পরিশ্রমেরই ফল এই পুজো। অতীতে সুজিত বসু একা নিজেকে প্রচারের আলোয় রাখতেন এবং নিজের কৃতিত্ব হিসেবে তুলে ধরতেন। কিন্তু এবার পুজো হবে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে, শ্রীভূমির আসল ক্লাব-সংস্কৃতি বজায় রেখে।”
বাবুয়া চ্যাটার্জি আরও জানান, বিগত বছরগুলির তুলনায় এবার পুজোর পরিসর যেমন বাড়ছে, তেমনই দর্শনার্থীদের ভিড় সামলাতে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের সঙ্গে বিশেষ আলোচনার মাধ্যমে সব ধরণের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
রাজনৈতিক তরজা থাকলেও সৌহার্দ্যের ছবি ফুটে উঠেছে বাবুয়া চ্যাটার্জির কথায়। সুজিত বসুর পরিবারকে পুজোয় আমন্ত্রণ জানিয়ে তিনি বলেন, “রাজনীতিতে বিরোধিতা থাকতে পারে, কিন্তু ব্যক্তি শত্রুতা আমাদের নীতি নয়। সুজিতবাবুর স্ত্রী বা সন্তানরা পুজোয় এলে তাঁদের সাদরে অভ্যর্থনা জানানো হবে।” অতীতে গুটি কতক পরিবারের নিয়ন্ত্রণে পুজো থমকে থাকলেও, এবার সাধারণ মানুষের মুক্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমেই শ্রীভূমির পুজো নতুন ইতিহাস তৈরি করবে বলে আশাবাদী উদ্যোক্তারা।