পিতৃপক্ষে জল দিতে পারেননি? বছরের এই ৫ বিশেষ দিনে তর্পণ করলেই মিলবে পূর্বপুরুষের আশীর্বাদ!

পিতৃপক্ষে জল দিতে পারেননি? বছরের এই ৫ বিশেষ দিনে তর্পণ করলেই মিলবে পূর্বপুরুষের আশীর্বাদ!

হিন্দু ধর্মে পিতৃপুরুষের আত্মার শান্তি ও বংশের কল্যাণের জন্য ‘পিতৃপক্ষ’কে অত্যন্ত পবিত্র মনে করা হয়। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই সময়ে পূর্বপুরুষরা বংশধরদের কাছ থেকে জল ও তর্পণের আশায় মর্ত্যে আগমন করেন। কিন্তু কোনো কারণবশত যদি আপনি পিতৃপক্ষে তর্পণ বা শ্রাদ্ধ করতে না পারেন, তবে কি আর পিতৃপুরুষের আশীর্বাদ পাওয়ার সুযোগ থাকবে না?

শাস্ত্র অনুযায়ী, একদমই চিন্তার কিছু নেই! কেবল পিতৃপক্ষই নয়, বছরের আরও ৫টি বিশেষ শুভ তিথিতে শ্রদ্ধাভরে জল নিবেদন ও দানধ্যান করলেও একই ফল লাভ করা যায়। জেনে নিন সেই ৫টি পুণ্য দিন সম্পর্কে—

  • সংক্রান্তি (বিশেষত মকর সংক্রান্তি): হিন্দু ধর্মীয় রীতিতে প্রতি মাসের সংক্রান্তি তিথিতেই পিতৃপুরুষের উদ্দেশ্যে তর্পণ ও দানের বিধান রয়েছে। তবে এর মধ্যে ‘মকর সংক্রান্তি’র গুরুত্ব অপরিসীম। এই দিনে নদীতে স্নান সেরে তর্পণ ও সাধ্যমতো দান করলে প্রয়াত পূর্বপুরুষদের আত্মা পরম শান্তি পায়।
  • গঙ্গা দশহরা: জ্যৈষ্ঠ মাসের শুক্লপক্ষের দশমী তিথি ‘গঙ্গা দশহরা’ হিসেবে পালিত হয়। এদিন গঙ্গাস্নান করে পিতৃপুরুষদের স্মরণে শ্রদ্ধা নিবেদন করা অত্যন্ত পুণ্যদায়ক। শাস্ত্রমতে, এই তিথিতে তর্পণ ও দানধ্যান করলে সমস্ত পাপস্খলন হয়।
  • অক্ষয় তৃতীয়া: বৈশাখ মাসের শুক্লপক্ষের তৃতীয়া অর্থাৎ ‘অক্ষয় তৃতীয়া’ সোনা-রুপো কেনা কিংবা লক্ষ্মী-গণেশ ও কুবের দেবের আরাধনার জন্য জনপ্রিয়। তবে শাস্ত্র অনুযায়ী, এদিন পিতৃপুরুষদের উদ্দেশ্যে তর্পণ ও পিণ্ডদানও করা যায়। এই শুভ তিথিতে করা যেকোনো সৎকর্ম ও তর্পণের ফল ‘অক্ষয়’ বা চিরস্থায়ী হয়।
  • ভাদ্রপদ পূর্ণিমা: ভাদ্র মাসের শুক্লপক্ষের পূর্ণিমা তিথিকে ‘প্রোষ্ঠপদী পূর্ণিমা’ বা ‘শ্রাদ্ধী পূর্ণিমা’ বলা হয়। ঠিক পিতৃপক্ষ শুরুর আগের দিন এই তিথি আসে। ধর্মীয় গ্রন্থে এই বিশেষ দিনে পূর্বপুরুষদের তর্পণ ও শ্রাদ্ধ করার সুস্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে। এছাড়া প্রতি মাসের পূর্ণিমা তিথিতেও পিতৃপুরুষের নামে দান করা অত্যন্ত শুভ।
  • মৃত্যুতিথি বা বার্ষিক শ্রাদ্ধ: পরিবারের প্রয়াত সদস্যের পঞ্জিকা অনুযায়ী প্রতি বছরের মৃত্যুর তিথিতে যে পূজা বা আচার পালন করা হয়, তাকে ‘বার্ষিক শ্রাদ্ধ’ বা ‘একোদ্দিষ্ট শ্রাদ্ধ’ বলা হয়। বছরের এই নির্দিষ্ট দিনে শ্রদ্ধাভরে পূর্বপুরুষকে স্মরণ করে শ্রাদ্ধ, তর্পণ ও অন্নদান করলে পিতৃপুরুষের কৃপা দৃষ্টি সর্বদা পরিবারের ওপর থাকে।

পিতৃপুরুষের আশীর্বাদ লাভ করতে কেবল একটি নির্দিষ্ট সময়ের ওপর নির্ভর করতে হয় না। ভক্তি ও শ্রদ্ধা থাকলে বছরের এই শুভ দিনগুলিতে তর্পণ নিবেদন করলেও সংসারে বজায় থাকে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *