বিদ্যুৎস্পৃষ্টের পর এবার জলমৃত্যু! মেদিনীপুরে ফের হস্তিশাবকের দেহ উদ্ধার, ঘনীভূত রহস্য

মেদিনীপুর: তিন-তিনটি হাতির বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর রেশ কাটতে না কাটতেই ফের অঘটন মেদিনীপুরে! এবার কুবাই নদী থেকে উদ্ধার হলো এক হস্তিশাবকের মৃতদেহ। ঘটনাটি ঘটেছে মেদিনীপুর ডিভিশনের নয়াবসত রেঞ্জের কিয়ামাচা বিট এলাকার বড় চাঁদাবিলা গ্রামের কাছে। টানা একের পর এক হাতি মৃত্যুর ঘটনায় জোর চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়।
নদীতে ভাসছিল দেহ, উদ্ধারে বনদপ্তর বুধবার সন্ধ্যায় বড় চাঁদাবিলা গ্রামের কাছে কুবাই নদীর জলে একটি হস্তিশাবকের দেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান বনকর্মী ও আধিকারিকরা। স্থানীয়দের সহায়তায় নদী থেকে মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।
কীভাবে ঘটল মৃত্যু? মেদিনীপুর ডিভিশনের ডিএফও জোন্স জাস্টিন জানান, “ঠিক কীভাবে শাবকটি নদীতে পড়ল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। প্রাথমিক অনুমান, দুই-চার দিন আগে কোনওভাবে জলে পড়ে দুর্ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে। তবে মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট এলেই।”
ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা বেশ কিছু প্রশ্ন তুলেছেন। এলাকা বাসিন্দা শঙ্কর ঘোষ ও প্রতাপ মাহাতোদের দাবি, “সাধারণত দলে থাকা কোনো শাবক জলে বা কুয়োয় পড়ে গেলে মা হাতিসহ পুরো দল বিকট গর্জন করে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করে। কিন্তু ক্যানোও এমন কোনো আওয়াজ আমরা পাইনি। ফলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, অন্য কোথাও জলে পড়ে মারা যাওয়ার পর দেহটি ভেসে কুবাই নদীর এই এলাকায় এসেছে।”
চাঞ্চল্য বনমহলে উল্লেখ্য, কয়েক দিন আগেই পিড়াকাটা রেঞ্জের রঞ্জা এলাকায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই শাবকসহ তিনটি হাতির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছিল। সেই ঘটনার তদন্ত ও ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট আসার আগেই ফের কুবাই নদীতে এই মৃত্যু। বর্তমানে পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম ও বাঁকুড়ার জঙ্গলগুলিতে একাধিক হাতির দল ঘুরে বেড়াচ্ছে। বনদপ্তর থেকে স্থানীয়দের সতর্কবার্তা পাঠানো সত্ত্বেও কীভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটে গেল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।