RG Kar কাণ্ডে বড় ধাক্কা! সৎকার মামলার তদন্তভারও রাজ্য পুলিশের থেকে কাড়ল হাইকোর্ট

আরজি কর কাণ্ডের (RG Kar Case) তদন্তে ফের বড়সড় মোড়। তিলোত্তমার দেহ দ্রুত সৎকার ঘিরে ওঠা বিতর্ক ও দায়ের হওয়া মামলার তদন্তভার রাজ্য পুলিশের হাত থেকে কেড়ে নিয়ে সিবিআইয়ের (CBI) হাতে তুলে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। খড়দহ থানার পুলিশ কেন আলাদা করে মামলা রুজু করে তদন্ত করছিল, তা নিয়ে আদালতে তীব্র প্রশ্নের মুখে পড়েছে রাজ্য পুলিশ।
জোড়া তদন্ত নিয়ে আদালতের তীব্র প্রশ্ন
বিচারপতি শম্পা সরকার এবং বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। শুনানিমুখী আদালত স্পষ্ট প্রশ্ন তোলে—
- হাই কোর্টের নির্দেশে ইতিমধ্যেই যখন আরজি কর কাণ্ড ও সংশ্লিষ্ট ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে সিবিআই এবং বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) তদন্ত করছে, তখন খড়দহ থানা পৃথক মামলা দায়ের করল কেন?
- আদালতের নির্দেশ ও তদন্তের একচ্ছত্র এক্তিয়ার সম্পর্কে পুলিশ আধিকারিকরা ওয়াকিবহাল ছিলেন না কেন?
বিচারপতি শম্পা সরকার মন্তব্য করেন, আদালতের নির্দেশ এড়াতে বা তদন্তের দিক ঘোরাতে পুলিশ এই পদক্ষেপ করেছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এমনকি প্রয়োজনে দায়ী পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের ইঙ্গিতও দিয়েছে আদালত।
অন্যদিকে, সাধারণ অভিযোগের ক্ষেত্রে পুলিশের ধীরগতি আর এই ক্ষেত্রে তড়িঘড়ি পদক্ষেপ নিয়ে ব্যাঙ্গাত্মক মন্তব্য করেন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ।
মামলায় মূল কাদের নাম রয়েছে?
তিলোত্তমার পরিবার অগাস্ট মাসে অভিযোগ তুলেছিল যে, ঘটনার রাতে কোনো এক বিশেষ প্রভাবে তড়িঘড়ি দেহ সৎকার করা হয়। খড়দহ থানায় সেই অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা হলে জলহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ, সোমনাথ দে এবং সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের নাম উঠে আসে এবং পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার করে।
সিবিআইয়ের আওতায় এবার নতুন কোন কোন দিক?
হাইকোর্টের এই কড়া নির্দেশের পর খড়দহ থানার হাত থেকে সমস্ত নথিপত্র সিবিআইয়ের কাছে সোপর্দ করা হচ্ছে। এর ফলে মূল আরজি কর মামলার পাশাপাশি সিবিআই এখন সরাসরি খতিয়ে দেখবে:
- সৎকার পর্বের দিন ঠিক কী ঘটেছিল এবং সেখানে কাদের উপস্থিতি ছিল?
- তড়িঘড়ি দেহ সৎকারের পেছনে কোনো প্রভাবশালী মহলের হাত বা তথ্যপ্রমাণ লোপাটের চেষ্টা ছিল কি না?
- পরিবারের সমস্ত অভিযোগের আসল সত্যতা।