‘যাত্রীদের এভাবে মরতে দিতে পারি না!’ মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ককপিটে অবিশ্বাস্য লড়াই ক্যাপ্টেন স্মিতের

‘যাত্রীদের এভাবে মরতে দিতে পারি না!’ মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ককপিটে অবিশ্বাস্য লড়াই ক্যাপ্টেন স্মিতের

মাঝআকাশে ককপিটের ভিতর চরম আতঙ্ক! রক্তাক্ত শরীরেও যাত্রীদের প্রাণ বাঁচাতে ককপিটের দরজা খুলে দিলেন ফ্লাইদুবাই-এর বীর ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর। সম্প্রতি হাসপাতালের বেড থেকে সেই ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কথা জানাতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তিনি।

‘যাত্রীদের তো এভাবে মরতে দিতে পারি না…’

দুবাইয়ের হাসপাতালে শুয়ে চিকিৎসাধীন ক্যাপ্টেন স্মিত। মাথায় ব্যান্ডেজ, হাতে গুরুতর আঘাত, সারা শরীরে অগণিত ক্ষত। সেই অবস্থাতেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে কথোপকথনে তুলে ধরলেন সেদিনের সেই ভয়াবহ মিনিট কয়েকের বিবরণ। সহ-পাইলটের সঙ্গে সংঘর্ষে গুরুতর আহত হওয়ার পর বিমানটি দ্রুত নিচের দিকে নামতে শুরু করেছিল।

ক্যাপ্টেন বলেন, “শরীর থেকে ফিনকি দিয়ে রক্ত বেরোচ্ছিল, প্রচণ্ড যন্ত্রণায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েছিলাম। কিন্তু চোখ বন্ধ থাকলেও বুঝতে পারছিলাম বিমানটি হু হু করে ভেঙে পড়ছে। মনে হলো, আমি যদি এখন কিছু না করি, তবে সব শেষ হয়ে যাবে। ১৭ বছর ধরে বিমান চালাচ্ছি, আমি যাত্রীদের এভাবে মরতে দিতে পারি না।”

৯/১১-এর লক সিস্টেম ভেঙে আসাম্ভবকে সম্ভব!

৯/১১-এর সন্ত্রাসী হানার পর থেকে বিমানের ককপিটে আন্তর্জাতিক মানের লক সিস্টেম চালু করা হয়, যাতে ভিতর থেকে না খুললে বাইরে থেকে কেউ ঢুকতে না পারে। আর স্পাইসজেটের চেয়ারম্যান অজয় সিং জানান, ককপিটের সেই দরজার ল্যাচটি ছিল হামলাকারী সহ-পাইলটের দিকেই।

চরম বিপদের মুখে দাঁড়িয়ে নিজের প্রাণের পরোয়া না করে, কো-পাইলটের আঘাত সহ্য করেই ল্যাচের দিকে হাত বাড়ান ক্যাপ্টেন স্মিত। অদম্য মানসিক জোর সম্বল করে কোনোমতে খুলে দেন ককপিটের দরজা। দরজা খুলতেই বিমানের অন্যান্য কর্মী ও যাত্রীরা ভেতরে ঢুকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

বিপদের মুহূর্তে হনুমান চালিশা ও ঠান্ডা মাথার সিদ্ধান্ত

শুধু ককপিটের দরজা খোলাই নয়, জীবনের শেষ মুহূর্ত ভেবেও একজন দক্ষ পাইলটের দায়িত্ব পালন করে গিয়েছেন স্মিত। বিমান নিয়ন্ত্রণ কক্ষকে (ATC) ককপিটের বর্তমান পরিস্থিতি জানাতে তিনি দ্রুত জরুরি সঙ্কেত ‘৭৭০০’ এবং পরপরই বিমান দখলের সঙ্কেত ‘৭৫০০’ পাঠান।

প্রধানমন্ত্রী মোদী যখন তাকে জিজ্ঞাসা করেন, “এত আঘাত আর রক্তপাতের মাঝে কোথা থেকে এমন সাহস পেলেন?” স্মিত মুচকি হেসে জানান, চরম বিপদের সময়ে হনুমান চালিশা জপই তাঁকে মানসিকভাবে শক্ত রেখেছিল এবং মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েও লড়াই করার সাহস জুগিয়েছিল।

ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের এই অতুলনীয় সাহসিকতা, পেশাদারিত্ব ও উপস্থিত বুদ্ধির প্রশংসায় আজ পঞ্চমুখ গোটা বিশ্ব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *