জলের তলায় সোনায় মোড়া প্রতিমা! রবি ঠাকুরের বাড়ির সেই রাজকীয় পুজো আজ হারিয়ে গেল কোথায়?

জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির দুর্গাপুজোর জাঁকজমক একসময় তাক লাগিয়ে দিয়েছিল পুরো কলকাতাকে। ১৭৮৪ সালে নীলমণি ঠাকুর এই পুজোর সূচনা করলেও প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের আমলে এর রাজকীয় বহর আকাশ ছুঁয়েছিল। প্যারিস থেকে আনা গয়না পরানো হতো দেবীকে। বৈষ্ণব ভাবধারার এই পরিবারে পাঁঠাবলির বদলে কুমড়ো বলির প্রথা ছিল। বিজয়া দশমীতে সোনায় মোড়া প্রতিমা গঙ্গায় বিসর্জন দেওয়া হতো এবং তা তোলার জন্য জলে ঝাঁপ দিতেন মাঝিমাল্লারা। পুজোর আগে শঙ্খচিল এবং বিজয়ায় নীলকণ্ঠ পাখি ওড়ানোর অনন্য ঐতিহ্যও ছিল এই বনেদি বাড়িতে।
তবে কালের নিয়মে ও পারিবারিক ভাবধারার পরিবর্তনে হারিয়ে গেছে সেই ঐতিহ্য। প্রিন্স দ্বারকানাথের পুত্র মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ব্রাহ্মধর্ম গ্রহণ করার পর নিরাকার ঈশ্বর উপাসনায় মন দেন। মূর্তিপুজোর বিরোধিতা করায় ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যায় ঠাকুরবাড়ির এই বিখ্যাত দুর্গোৎসব। যদিও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গতানুগতিক মূর্তিপুজো না করলেও এই উৎসবের সামাজিক মিলন ও আনন্দকে গভীর ভালোবাসতেন। আজ জোড়াসাঁকোর দালান শান্ত হলেও কলকাতার দুর্গাপুজোর ইতিহাসে চিরকাল অমলিন হয়ে রয়েছে ঠাকুরবাড়ির এই রাজকীয় গল্প।