রাজ্যে ভুয়ো চিকিৎসক রুখতে কড়া স্বাস্থ্য দপ্তর, নিয়োগের আগে মানতে হবে কড়া নিয়ম

রাজ্যে ভুয়ো চিকিৎসক রুখতে কড়া স্বাস্থ্য দপ্তর, নিয়োগের আগে মানতে হবে কড়া নিয়ম

রাজ্যে ভুয়ো চিকিৎসকের বাড়বাড়ন্ত রুখতে এবার বড়সড় পদক্ষেপ নিল স্বাস্থ্য দপ্তর। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের পর সমস্ত বেসরকারি হাসপাতাল, নার্সিংহোম এবং ক্লিনিকগুলির জন্য জারি হলো কড়া নির্দেশিকা। এখন থেকে চিকিৎসকদের নিয়োগের আগে তাঁদের রেজিস্ট্রেশন এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার সমস্ত নথি চার দফায় যাচাই করা একেবারে বাধ্যতামূলক করা হলো।

স্বাস্থ্য অধিকর্তা স্বপন সরেন বুধবার একটি নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানিয়েছেন, বৈধ রেজিস্ট্রেশন এবং যোগ্যতার প্রমাণ সম্পূর্ণ যাচাই না হওয়া পর্যন্ত কোনও ব্যক্তিকে চিকিৎসক হিসেবে নিয়োগ করা যাবে না। এমনকী তাঁরা কোনও রোগীকে ওষুধও প্রেসক্রাইব করতে পারবেন না। চিকিৎসকের পরিচয় বা যোগ্যতা নিয়ে বিন্দুমাত্র সন্দেহ তৈরি হলে, অবিলম্বে তা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করতে হবে।

নেপথ্যে হাইকোর্টের কড়া নির্দেশ গত ১৬ সেপ্টেম্বর সুজিত বিশ্বাস নামক এক ব্যক্তির রিট পিটিশনের ভিত্তিতে কলকাতা হাইকোর্ট কড়া নির্দেশ দেয়। রোগীদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখেই আদালতের নির্দেশে এই ব্যবস্থা। স্বাস্থ্য দপ্তরের নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, অননুমোদিত কেউ চিকিৎসক পরিচয়ে চিকিৎসা করলে অবিলম্বে তাঁকে শনাক্ত করে কড়া আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে এবং স্বাস্থ্য দপ্তরকেও সেই রিপোর্ট পাঠাতে হবে।

কী বলছে বেসরকারি হাসপাতালগুলি? অ্যাসোসিয়েশন অফ প্রাইভেট হসপিটাল অ্যান্ড নার্সিংহোম স্বাস্থ্য দপ্তরের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। সংগঠনের সম্পাদক রাজীব পাণ্ডে জানান, নৈতিক চিকিৎসা-চর্চা বজায় রাখতে তারা সরকারকে সবরকম সাহায্য করবে। পাশাপাশি, পশ্চিমবঙ্গ মেডিক্যাল কাউন্সিলের বিরুদ্ধে ওঠা ভুয়ো চিকিৎসক-কাণ্ডের একটি নিরপেক্ষ তদন্তেরও দাবি জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি বিহারের ভুয়ো চিকিৎসা-শংসাপত্র ব্যবহার করে এ রাজ্যে রেজিস্ট্রেশন নেওয়ার অভিযোগে ৫ জনের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করেছিল মেডিক্যাল কাউন্সিল। তারপর থেকেই চিকিৎসকদের রেজিস্ট্রেশন নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।

এই পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসন ও লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষকে চলতি সপ্তাহের মধ্যেই নির্দেশিকা কার্যকরের ‘কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট’ স্বাস্থ্য দপ্তরে পাঠাতে বলা হয়েছে। দপ্তরের মতে বিষয়টি ‘অত্যন্ত জরুরি’, কারণ এই রিপোর্ট সরাসরি কলকাতা হাইকোর্টে পেশ করা হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *