গর্ভবতী ও থ্যালাসেমিয়া রোগীদের জন্য বড় স্বস্তি! জলপাইগুড়ি মেডিক্যালে চালু হলো নতুন ব্যবস্থা

জলপাইগুড়ি: আর রক্তের জন্য ছোটাছুটি নয়! পুজো যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই বিভিন্ন হাসপাতালে দেখা দিচ্ছে রক্তের আকাল। বিশেষ করে থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত রোগী এবং প্রসূতি মায়েদের রক্তের জোগান দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। এই সংকট থেকে রোগীদের মুক্তি দিতে এক অভিনব ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিল জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল। এখন থেকে রোগীর পরিবারের সঙ্গে ব্লকের ব্লাড ডোনেশন সংগঠনগুলির সরাসরি যোগাযোগ করিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
নতুন ব্যবস্থায় কীভাবে মিলবে সুরাহা?
মেডিক্যাল কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রসূতি মহিলাদের গর্ভকালীন রেজিস্ট্রেশনের সময় যদি দেখা যায় হিমোগ্লোবিনের মাত্রা ১০ বা তার নিচে, তবে তাঁদের রক্তের গ্রুপের সঙ্গে মিল রয়েছে এমন ৫ জন ডোনারের নাম ও ফোন নম্বর সরাসরি প্রেসক্রিপশনে লিখে দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে রোগীর পরিবারকে আর রক্ত জোগাড় করতে হাড়ভাঙা খাটনি খাটতে হচ্ছে না। এছাড়া ব্লাড ডোনেশন ক্যাম্প করা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলির ফোন নম্বর ব্লক অনুযায়ী ভাগ করে একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে, যা থ্যালাসেমিয়া ইউনিটকেও দেওয়া হয়েছে। রক্তের প্রয়োজন হলেই সংশ্লিষ্ট ব্লকের সংগঠনগুলি এগিয়ে এসে সাহায্য করবে।
কেন এই রক্তের আকাল?
জলপাইগুড়ি মেডিক্যালের ব্লাড ব্যাঙ্ক সূত্রে খবর, প্রতিদিন গড়ে ৬০ থেকে ৭০ ইউনিট রক্ত বিভিন্ন বিভাগে সরবরাহ করা হয়, যা মাসে দাঁড়ায় প্রায় ১৫০০ থেকে ১৮00 ইউনিটে। কিন্তু পুজোর আগে পরিস্থিতি অত্যন্ত সঙ্গীন। স্বাস্থ্যকর্মীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে ১৮টি স্বেচ্ছাসেবী ক্যাম্প থেকে মাত্র ৩০০ ইউনিট রক্ত পাওয়া গেছে। অনেক ক্যাম্প থেকে আবার ৫-৬ ইউনিটের বেশি রক্ত সংগ্রহ করা যায়নি। বর্তমানে রোগীর আত্মীয় বা নিজস্ব ডোনারের মাধ্যমেই মূলত চাহিদা মেটানো হচ্ছে।
ব্লাড ব্যাঙ্কের মেডিক্যাল অফিসার অনিন্দ্যপ্রকাশ ঘোষ জানান, বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দিতে এই রুটিনভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবস্থার পাশাপাশি বেশি করে রক্তদান শিবির করার উপরই জোর দেওয়া হচ্ছে। পুজোর দিনগুলিতে যাতে কোনও রোগীর জীবন সংকটে না পড়ে, তার জন্যই এই আগাম প্রস্তুতি।