‘ভবানীপুর ছাড়লে ও আবার সুযোগ পেত’, উপনির্বাচনের প্রচারে মমতাকে তীব্র কটাক্ষ শুভেন্দুর

‘ভবানীপুর ছাড়লে ও আবার সুযোগ পেত’, উপনির্বাচনের প্রচারে মমতাকে তীব্র কটাক্ষ শুভেন্দুর

নন্দীগ্রাম: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর এবং নন্দীগ্রাম— জোড়া কেন্দ্র থেকেই বিপুল জয় পেয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু জয়ের পর নিজের পুরনো গড় নন্দীগ্রামের বিধায়ক পদ ছেড়ে ভবানীপুরকেই বেছে নেন তিনি। কেন এই অবাক করা সিদ্ধান্ত? অবশেষে নন্দীগ্রামের মাটিতে দাঁড়িয়েই এর আসল কারণ খোলসা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের সমর্থনে আয়োজিত এক জনসভায় যোগ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ভবানীপুর কেন্দ্রটি ছেড়ে দিলে মানুষের দ্বারা বিতাড়িত হওয়া ব্যক্তি আবারও সেখানে দাঁড়ানোর সুযোগ পেয়ে যেতেন। মমতাকে তীব্র কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “ভবানীপুর ছেড়ে দিলে যাকে মানুষ বিতাড়িত করেছে সে আবার দাঁড়ানোর সুযোগ পেয়ে যেত। নন্দীগ্রামে হেরে তো আগেই বাড়ি চলে গিয়েছিলেন, ১৯৫৬!”

নন্দীগ্রামের বিধায়ক পদ ছাড়লেও সেখানকার মানুষের প্রতি তাঁর যে টান এতটুকুও কমেনি, এদিন সে কথাও স্পষ্ট করেন শুভেন্দু। নন্দীগ্রামবাসীকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, “আপনাদের চিন্তার কোনও কারণ নেই। আপনাদের বন্ধু শুভেন্দু আগের মতোই আছে এবং আগামী দিনেও থাকবে।” পাশাপাশি, আগামী দিনে নন্দীগ্রামকে তিন গুণ বেশি সাহায্য করার প্রতিশ্রুতিও দেন মুখ্যমন্ত্রী। বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ জয়ী হলে একজন যোগ্য বিধায়ক হিসেবে কাজ করবেন বলেও আশাপ্রকাশ করেন তিনি।

এদিন স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে তৃণমূল, বাম ও কংগ্রেসকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন শুভেন্দু। তৃণমূলকে ‘গরুর গাড়ির হেডলাইট’ বলে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “ওই ঘাসফুল আর ছিন্নমূল, পার্টিটাই এখন আর নেই। এদের সাংসদ বা বিধায়ক কেউই নেই।” এখানকার তৃণমূল প্রার্থী সঞ্চিতা মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেওয়ায় বিরোধীদের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। শুভেন্দুর স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, উপনির্বাচনে বাম-কংগ্রেস সহ সমস্ত বিরোধীদের জামানত জব্দ হবে এবং ভোটের দিন বুথ ভিত্তিক গণনায় তার প্রমাণ মিলবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *