‘জ্ঞানেশ ইস্তফা না দিলে…!’ মহালয়ায় ককরোচদের বিরাট আন্দোলনের ডাক, প্রবল চাপে নির্বাচন কমিশন

কয়েক মাস আগেই তুমুল ছাত্র আন্দোলনের জেরে ইস্তফা দিতে বাধ্য হয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী। এবার নিশানায় দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমার। তাঁর পদত্যাগের দাবিতে আগামী ১০ অক্টোবর, মহালয়ার দিন রাজধানী দিল্লিতে ‘যন্তর মন্তর ২.০’ গড়ার ডাক দিল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)।
মুম্বইয়ের শিবাজি পার্কে বিশাল প্রতিবাদ সভার পরদিনই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে আন্দোলনের এই রূপরেখা ঘোষণা করেছেন সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে।
কেন এই মহাহুঁশিয়ারি? মূলত ভোটার তালিকার ‘স্পেশাল ইন্টেন্সিভ রিভিশন’ (SIR) প্রক্রিয়ায় ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন আন্দোলনকারীরা। এর পাশাপাশি, সম্প্রতি ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর একটি বিস্ফোরক রিপোর্টে নির্বাচন কমিশনের অন্দরের তীব্র মতবিরোধ প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষোভের আগুন আরও ছড়িয়েছে।
‘বাধা দিলে সেটাই হবে যন্তর মন্তর’ সোশ্যাল মিডিয়ায় কড়া বার্তা দিয়ে অভিজিৎ দিপকে জানিয়েছেন, জ্ঞানেশ কুমার স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করলে ১০ অক্টোবর সারা দেশের ‘ককরোচ’ অর্থাৎ যুবসমাজ ও সাধারণ মানুষ দিল্লির যন্তর মন্তরে জমায়েত করবে। প্রশাসনকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে তাঁর হুঁশিয়ারি, পুলিশ যদি পথ আটকানোর চেষ্টা করে, তবে যেখানে তাঁদের আটকানো হবে, সেটাই হয়ে উঠবে প্রতিবাদী ‘যন্তর মন্তর’।
শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ডাক, মনে করানো হল ২০ জুলাইয়ের স্মৃতি আন্দোলন সম্পূর্ণ অহিংস হবে বলে জানালেও, প্রশাসনকে ২০ জুলাইয়ের মর্মান্তিক স্মৃতির কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন দিপকে। উল্লেখ্য, জুলাইয়ে সংসদ ভবন অভিযানে ছাত্র-পুলিশ সংঘর্ষে অগ্নিগর্ভ হয়েছিল দিল্লি। ভিড় হটাতে আধা সেনার ছররা গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে, যার তদন্ত করছে সুপ্রিম কোর্টের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি। দিপকে স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁরা গান্ধীজির অহিংস পথেই হাঁটবেন, তবে সরকার যেন ২০ জুলাইয়ের বর্বরতার পুনরাবৃত্তি না করে।
তারকা থেকে জেন-জি, মুম্বইয়ের পারদ এবার দিল্লিতে সম্প্রতি মুম্বইয়ের শিবাজি পার্কে পুলিশের অনুমতি ছাড়াই সিজেপি-র সভায় ১০ হাজারের বেশি মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। নাসিরুদ্দিন শাহ, শাবানা আজমি ও বিশাল দাদলানির মতো প্রবীণ ও জনপ্রিয় তারকারাও সেখানে পা মিলিয়েছিলেন। তবে সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ে তরুণ প্রজন্মের (Gen Z) অংশগ্রহণ। ব্যাঙ্গাত্মক প্ল্যাকার্ডের পাশাপাশি বলিউডি গানের প্যারোডি করে তাঁদের গাইতে শোনা যায়— “ভোট চুরায়া মেরা, কিসনে ও সনম? জ্ঞানু নে!”
মঞ্চ থেকে দিপকে স্পষ্ট বার্তা দেন, “জ্ঞানু ইস্তফা না দিলে লড়াই আরও বড় হবে। কারণ আসল খেলাটা তো নেপথ্যে থাকা নান্দু চালাচ্ছে!” শিবাজি পার্কের সেই রণংদেহী মেজাজ এবার মহালয়ার দিন দিল্লির বুকে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ।