‘লোটা-কম্বল গুটিয়ে সোজা কংগ্রেসে চলে আসুন!’ উপনির্বাচনের আগেই মমতাকে ‘মেগা অফার’ অধীরের

রাজ্য রাজনীতিতে ফের বড় চমক! আগামী ৬ অক্টোবর রাজ্যের দুই কেন্দ্রের উপনির্বাচন। আর ঠিক তার আগেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দিলেন একদা কট্টর তৃণমূল সমালোচক অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, দলের যাবতীয় ‘ঝঞ্ঝাট’ বা বোঝা ঝেড়ে ফেলে সমস্ত সাংসদ ও বিধায়কদের নিয়ে সোজা কংগ্রেসে মিশে যান মমতা!
কী বললেন অধীর চৌধুরী? ইন্ডিয়া (INDIA) জোটের বৈঠকের পরই অধীরের এই মন্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে। তৃণমূল নেত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “কংগ্রেস হল বটগাছ। সেই বটগাছের তলায় যখন আশ্রয় নিয়েইছেন, তখন দলের যে ক’জন সাংসদ-বিধায়ক বেঁচে আছে, তাদের নিয়ে কংগ্রেসে চলে আসুন। শুধু আপনার ব্যাগেজ বা ঝঞ্ঝাটগুলো বাদ দিন। লোটা-কম্বল সব নিয়ে কংগ্রেসের সঙ্গেই শামিল হয়ে যান।” পাশাপাশি তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, প্রয়াত রাজীব গান্ধী থেকে শুরু করে সোনিয়া ও রাহুল গান্ধী বরাবরই মমতাকে সাহায্য করে এসেছেন।
কী প্রতিক্রিয়া তৃণমূলের? দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত কৌশলে তা এড়িয়ে যান। তিনি স্পষ্ট জানান, “এখানে দাঁড়িয়ে আমি আঞ্চলিক বিষয়ে কোনও কথা বলব না।” তবে অধীরকে পাল্টা জবাব দিয়েছেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। তাঁর দাবি, স্বয়ং সোনিয়া ও রাহুল গান্ধী যখন মমতার সঙ্গে কথা বলছেন, সেখানে অন্য কারও এমন খোঁচা দেওয়ার পিছনে নিশ্চিতভাবেই অন্য কোনও উদ্দেশ্য রয়েছে।
প্রতীকহীন তৃণমূল ও নয়া সমীকরণ: উল্লেখ্য, গত ২৮ বছরের ইতিহাসে এই প্রথমবার ‘জোড়াফুল’ প্রতীক এবং ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম ছাড়াই উপনির্বাচনে লড়ছে মমতার দল। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে দলের মূল নাম ও প্রতীক বর্তমানে ‘ফ্রিজ’ করা হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল এখন পরিচিত হয়েছে ‘কালীঘাট তৃণমূল’ নামে, আর তাদের লড়াইয়ের নতুন প্রতীক ‘ফুটবল খেলোয়াড়’।
এই প্রবল ডামাডোলের মাঝেই নন্দীগ্রামের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে হঠাৎ তাঁর মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন। বদলে নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থীকেই সমর্থনের বার্তা দিয়েছে মমতার দল। আর এই নয়া রাজনৈতিক সমীকরণের প্রেক্ষাপটেই অধীরের এই ‘কংগ্রেসে মেশার’ ডাক যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।