৯/১১-এর ছায়া আকাশে! ইজরায়েলগামী ফ্লাইটে ভারতীয় ক্যাপ্টেনের উপর হামলা চালানো সেই পাইলট কে?

দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাইয়ের (Flydubai FZ1073) ককপিটে ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের উপর নৃশংস হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত কো-পাইলটের আসল পরিচয় অবশেষে প্রকাশ্যে এল। সিএনএন-এর (CNN) রিপোর্ট অনুযায়ী, এই হামলাকারীর নাম হামাম-আল হাম্মামি। তিনি ওমানের নাগরিক হলেও, তাঁর উগ্রপন্থী মতাদর্শের কারণে খোদ তাঁর নিজের দেশই তাঁকে বিমান ওড়ানো থেকে নিষিদ্ধ করেছিল। আর প্রশ্ন উঠছে— দেশের দ্বারা নিষিদ্ধ হওয়া একজন ব্যক্তি কীভাবে একটি আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থার ককপিটে পৌঁছলেন?
গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আভিভ যাওয়ার পথে ককপিটের ভেতরেই ক্যাপ্টেন স্মিতের উপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে চড়াও হন ওই কো-পাইলট। গুরুতর জখম অবস্থাতেও ক্যাপ্টেন কোনোমতে ককপিটের দরজা খোলায় বড় ধরনের ৯/১১ স্টাইলের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়।
কে এই হামাম-আল হাম্মামি?
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, হাম্মামির জন্ম সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে। তাঁর বাবা ওমানি এবং মা সিরিয়ার নাগরিক। জীবনের একটা বড় অংশ তিনি সিরিয়াতেই কাটিয়েছেন, আর সেখানেই তিনি ইসলামিক উগ্রপন্থায় দীক্ষিত হন বলে তদন্তকারীদের দাবি।
তাঁর লিঙ্কডইন (LinkedIn) প্রোফাইল ঘেঁটে জানা যায়, তিনি প্রায় সাত বছর ‘ওমান এয়ার’-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এছাড়া মরক্কোর ‘রয়্যাল এয়ার মারোক’-এর নামও তাঁর প্রোফাইলে জুড়ে ছিল, যদিও সেই বিমান সংস্থা জানিয়েছে হাম্মামি কখনই তাদের হয়ে বিমান ওড়াননি। ব্রিটেনের বাকিংহ্যামশায়ার নিউ ইউনিভার্সিটি থেকে অ্যাভিয়েশন নিয়ে পড়াশোনা করেছিলেন তিনি।
কেন তাঁকে নিষিদ্ধ করেছিল ওমান?
তদন্তে সবচেয়ে বড় তথ্যটি সামনে এসেছে ওমান এয়ারের রেকর্ড থেকে। ২০২৪ সালে ওমান এয়ারে তাঁর ফ্লাইট ট্রেনিং মাঝপথেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তাঁর চরমপন্থী ও উগ্র মতাদর্শের বিষয়টি সামনে আসতেই তাঁকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে ওমান প্রশাসন। বিমান সংস্থার পক্ষ থেকেও এ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, যে পাইলটকে নিজের দেশই নিষিদ্ধ করেছে, ফ্লাইদুবাই কর্তৃপক্ষ কীভাবে তাঁকে নিয়োগ করল? আরও বড় প্রশ্ন, ওমান ও ইজরায়েলের কূটনৈতিক সম্পর্কের সমীকরণ না থাকা সত্ত্বেও, কীভাবে এমন একজন সংবেদনশীল ও উগ্রপন্থী ভাবধারার মানুষকে তেল আভিভগামী রুটে দায়িত্ব দেওয়া হলো?
চাঞ্চল্যকর কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা প্রশ্ন
ওমানের সঙ্গে ইজরায়েলের কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। ২০২০ সালের আব্রাহাম চুক্তি অনুযায়ী, যেসব দেশের সঙ্গে ইজরায়েলের সম্পর্ক নেই, সেই দেশের পাইলটদের তেল আভিভগামী ফ্লাইট ওড়ানোর ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তা সত্ত্বেও হাম্মামি কীভাবে এই ফ্লাইটে কো-পাইলটের দায়িত্ব পেলেন, তা নিয়ে ইজরায়েলসহ আন্তর্জাতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ইতিমধ্যেই দাবি করেছেন যে, অভিযুক্ত পাইলট সম্পূর্ণভাবে ‘ইসলামিক র্যাডিকাল মতাদর্শ’-এ দীক্ষিত। ঘটনার পর থেকেই আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহনের নিরাপত্তা এবং রিক্রুটমেন্ট প্রসেস নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।