ট্রাম্পের নয়া ফতোয়া! ডিজ়েল রপ্তানিতে বিপুল লাভের সুযোগ কি হাতছাড়া হবে ভারতের?

ট্রাম্পের নয়া ফতোয়া! ডিজ়েল রপ্তানিতে বিপুল লাভের সুযোগ কি হাতছাড়া হবে ভারতের?

বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের নিচে নামায় কিছুটা স্বস্তি মিলেছে। তবে এর মধ্যেই মার্কিন মুলুক থেকে ডিজ়েল রপ্তানি বন্ধ করার ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশেষজ্ঞদের মতে, ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপে ভারতের সামনে এক নতুন বাণিজ্য সম্ভাবনার পথ খুলে যেতে পারে।

বর্তমানে হরমুজ় প্রণালীর জটে পশ্চিম এশিয়া থেকে জ্বালানির জোগান তলানিতে। অন্যদিকে, ইউক্রেনের ড্রোন হানায় রুশ রিফাইনারি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এবং চিন নিজেদের ঘরোয়া চাহিদা মেটাতে রপ্তানি কমানোয় বিশ্ববাজারে এতদিন মার্কিন ডিজ়েলেরই একচ্ছত্র রাজত্ব ছিল। ট্রাম্প এবার দেশীয় বাজারে জোগান ঠিক রাখতে রপ্তানিতে খিল আঁটার কথা ভাবলেও, জি-৭ দেশগুলির ওপর চাপ সৃষ্টি করে আপৎকালীন ভাঁড়ার থেকে ১০ কোটি ব্যারেল ডিজ়েল ও অপরিশোধিত তেল বাজারে ছাড়ার ব্যবস্থা করছেন।

ভারতের সুবিধা কোথায়? ইউরোপের দেশগুলি মার্কিন ডিজ়েলের ওপর যতটা নির্ভরশীল, ভারত ততটা নয়। বরং বিশ্ববাজারে ক্রমশ কদর বাড়ছে ভারতীয় পরিশোধনাগারগুলির। পরিসংখ্যান বলছে, ভারত থেকে ডিজ়েল রপ্তানি বর্তমানে গত ৩ বছরের সর্বোচ্চ স্তরে রয়েছে। আমেরিকা ডিজ়েল রপ্তানি বন্ধ করলে ইউরোপের একটি বড় অংশের ক্রেতা যে ভারতের দ্বারস্থ হবে, তা নিশ্চিত। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা আয় করতে পারে নয়াদিল্লি। পাশাপাশি, রপ্তানিকারকদের প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখতে সম্প্রতি ডিজেলে ‘উইন্ডফল ট্যাক্স’ও কমিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।

রয়েছে বড় চ্যালেঞ্জও: লাভের গুড় ঘরে তোলার পাশাপাশি দেশের বাজারে ডিজ়েলের জোগান ও দাম নিয়ন্ত্রণে রাখাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এর জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত অপরিশোধিত তেল। এদিকে রাশিয়ার তেল কেনা নিয়ে আমেরিকার চাপের মুখে পড়ে ভারত সম্প্রতি রুশ তেল আমদানি কমিয়ে দিয়েছে। এই সুযোগে চিন সস্তায় রুশ তেল কিনে বাজার দখল করায়, ভারতীয় পরিশোধনাগারগুলিকে বাধ্য হয়ে আরব আমিরশাহি, ইরাক বা অ্যাঙ্গোলার মতো অপেক্ষাকৃত ব্যয়বহুল বিকল্প বাছতে হচ্ছে।

তাছাড়া, আন্তর্জাতিক চাহিদা মেটাতে গিয়ে দেশের বাজারে ডিজ়েলের জোগান কমলে বা দাম বাড়লে তা সার্বিক মূল্যবৃদ্ধির ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এমনিতে গত মে মাস থেকে দেশে জ্বালানির দাম না বাড়ায় রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলিকে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। সব মিলিয়ে, একদিকে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের হাতছানি এবং অন্যদিকে ঘরোয়া বাজারে মূল্যবৃদ্ধি সামলানোর দোটানায় এখন দেশের ডিজ়েল বাণিজ্য। এই জটিল পরিস্থিতি ভারত কীভাবে সামলায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *