সীমান্ত সুরক্ষায় বড় ফাঁক? বিএসএফ ও পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে অভিনব কায়দায় অনুপ্রবেশের পুনর্নির্মাণ বালুরঘাটে

সীমান্ত সুরক্ষায় বড় ফাঁক? বিএসএফ ও পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে অভিনব কায়দায় অনুপ্রবেশের পুনর্নির্মাণ বালুরঘাটে

বালুরঘাট: খুন বা বড় অপরাধের ঘটনায় অভিযুক্তকে ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে ‘সিন রিকনস্ট্রাকশন’ বা অপরাধের পুনর্নির্মাণ তো আকছারই দেখা যায়। কিন্তু এবার সীমান্ত পার হয়ে ভারতে ঢুকে পড়া দুই বাংলাদেশিকে নিয়ে গিয়ে ঠিক কী কায়দায় তারা কাঁটাতার গলে এ দেশে প্রবেশ করেছিল, তার হুবহু পুনর্নির্মাণ করাল পুলিশ ও বিএসএফ!

বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট ব্লকের চকভাতশালা সীমান্তে এই নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে, যা নিয়ে প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

কেন এই অভিনব উদ্যোগ? সাধারণত অনুপ্রবেশের অভিযোগে কেউ ধরা পড়লে মামলা রুজু করে আদালতে পাঠানো এবং পরবর্তীতে আইনি প্রক্রiyay পুশব্যাক করাই দস্তুর। কিন্তু এ বার এক ধাপ এগিয়ে নিরাপত্তার ফাঁকফোকর খতিয়ে দেখতে আসরে নামে পুলিশ। এক জেলা পুলিশকর্তার কথায়, “ধৃতরা সত্যি বলছে কি না, তা যাচাই করার পাশাপাশি বিএসএফের সঙ্গে যৌথভাবে আমরা দেখতে চেয়েছিলাম কোথায় নজরদারির গলদ রয়েছে।” আপাতত ধৃতদের তপনের একটি হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হয়েছে।

কীভাবে ভারতে ঢুকল দুই বন্ধু? পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বাংলাদেশের নওগাঁ জেলার ধামুরহাট এলাকার দুই বাসিন্দা বৃহস্পতিবার বালুরঘাটের চকভাতশালা এলাকায় আত্রেয়ী নদীর ধার দিয়ে ভারতে ঢোকে। ধৃতদের একজনের দাবি, নাবালক বন্ধুর খুব শখ ছিল ‘ইন্ডিয়া’ দেখার। সেই ইচ্ছে পূরণ করতেই সে এ দেশে আসে।

আত্রেয়ী নদী থেকে হাতিশুঁড়া এলাকার পুকুর পর্যন্ত প্রায় ১৫০ মিটার এলাকায় কোনও কাঁটাতার নেই। বিএসএফের কড়া নজরদারি সত্ত্বেও এই উন্মুক্ত ও কাঁটাতারহীন সুযোগকে কাজে লাগিয়েই তারা ঘাপটি মেরে এ দেশে ঢুকে পড়ে বলে অভিযোগ। স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করতে দেখে ধরে ফেলেন এবং পুলিশের হাতে তুলে দেন।

আগেও কি অনুপ্রবেশ হয়েছিল? পুলিশ জানতে পেরেছে, ধৃত সাবালক যুবক নাকি মাস ছয়েক আগেও একই রুট ব্যবহার করে ভারতে প্রবেশ করেছিল এবং চকভাতশালার এক ব্যক্তির বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিল। যদিও পুলিশ বা বিএসএফ এখনও পর্যন্ত সেই ব্যক্তির অস্তিত্ব বা কোনো যোগসূত্র খুঁজে পায়নি। ধৃতের দাবি, চরম দারিদ্র্যের কারণে পাসপোর্ট-ভিসা তৈরির সামর্থ্য না থাকায় তারা এই শর্টকাট পথ বেছে নিয়েছিল।

বালুরঘাটের বিধায়ক বিদ্যুৎকুমার রায় জানিয়েছেন, ধৃতরা সত্যিই নিছক ঘুরতে এসেছিল নাকি এর নেপথ্যে অন্য কোনো বড় কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পাশাপাশি, যে সমস্ত উন্মুক্ত সীমান্তে এখনও জমিজট বা কাঁটাতার নেই, সেখানে দ্রুত নিরাপত্তা জোরদার করার কাজ চলছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *