রেজিনগর উপনির্বাচন: হুমায়ুনের আসন দখলে মরিয়া বিজেপি, তুরুপের তাস কি মহিলা ভোট?

উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে এখন রাজনৈতিক উত্তাপের কেন্দ্রবিন্দুতে মুর্শিদাবাদের রেজিনগর। আমজনতা উন্নয়ন পার্টির জেতা এই আসনটি হাতছাড়া করতে নারাজ পদ্ম শিবির। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এই বিধানসভাকে মডেল হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিজেপি নেতৃত্ব। প্রেস্টিজ ফাইটে বাজিমাত করতে কোমর বেঁধে প্রচারে নেমেছে বিজেপি।
অন্যদিকে, নিজের গড় ধরে রাখতে মরিয়া হুমায়ুন কবীর এই উপনির্বাচনে তাঁর ছেলে গোলাম নবি আজাদকে প্রার্থী করেছেন। লড়াইয়ে রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস ও বামেরাও। তবে রাজনৈতিক মহলের ধারণা, শেষ পর্যন্ত মূল লড়াই হতে চলেছে হুমায়ুনের পুত্র বনাম বিজেপির মধ্যেই।
রেজিনগরে ফ্যাক্টর মহিলা ভোট রেজিনগর কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লক্ষ ৫৬ হাজার ২৬৭ জন, যার মধ্যে ৪৭ শতাংশ অর্থাৎ ১ লক্ষ ২২ হাজার ৪৯০ জনই মহিলা ভোটার। প্রচারের শুরু থেকেই মহিলা ভোটারদের মন জয় করার দিকে বিশেষ নজর দিয়েছে বিজেপি। স্থানীয় সংখ্যালঘু মহিলারাও দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ভুলে উন্নয়নের স্বার্থে পরিবর্তনের কথা ভাবছেন। হাসপাতাল, কলেজ এবং কর্মসংস্থানের অভাবের জেরে পরিযায়ী শ্রমিকদের দুর্দশা ঘুচিয়ে ঘরের পুরুষদের ঘরে ফেরানোই এখন এখানকার প্রধান দাবি।
কেন ক্ষুব্ধ রেজিনগরের মহিলারা? ২০১১ থেকে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের নানা পর্যায়ে বিধায়ক হুমায়ুনের বিভিন্ন দলবদলের ইতিহাস এখানকার ভোটারদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করেছে। স্থানীয় সংখ্যালঘু মহিলাদের অভিযোগ, সরকারি আবাসন যোজনা, বার্ধক্য ভাতা কিংবা মহামারীকালীন ত্রাণ— অনেক সুযোগ-সুবিধাই তাঁরা পাননি। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের বেহাল দশা এবং পরিযায়ী সমস্যার কারণে দৈনন্দিন জীবনে তাঁদের চরম লড়াই করতে হয়। সব মিলিয়ে, আসন্ন উপনির্বাচনে এই মহিলা ভোট ব্যাংকই রেজিনগরের রাজনীতির মূল চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারে।