‘রাজনৈতিক পালাবদলে প্রভাব পড়বে না সম্পর্কের ভিত’, সাফ কথা ভারতের

বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কবে এবং কীভাবে প্রত্যর্পণ করা হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো দিনক্ষণ জানাতে নারাজ ভারত। ঢাকার তরফে বারবার এই দাবি তোলা হলেও, গোটা বিষয়টি কঠোর আইনি পর্যালোচনার মধ্যে রয়েছে বলেই স্পষ্ট করে দিল নয়াদিল্লি।
সম্প্রতি ঢাকায় আয়োজিত এক আলোচনাসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত দীনেশ ত্রিবেদী জানান, শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর জন্য বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে যে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জমা পড়েছে, তা যথাযথ কূটনৈতিক ও আইনি পথেই বিবেচনা করছে ভারত।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা চরমে পৌঁছানোর পর ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। সেই সময়ে সীমান্ত পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে মানবিক কারণে তাকে আশ্রয় দেওয়া ছাড়া ভারতের সামনে অন্য কোনো বিকল্প ছিল না বলেই দাবি করেছেন কেন্দ্রীয় সরকারের শীর্ষস্তরের আধিকারিকরা।
অন্যদিকে, দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে কোনো টানাপোড়েন তৈরি হবে কি না—এমন জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে দীনেশ ত্রিবেদী জানান, ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কের ভিত্তি অত্যন্ত মজবুত। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবর্তন বা ঢাকার সঙ্গে অন্য দেশগুলির ঘনিষ্ঠতা দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না।
প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালে স্বাক্ষরিত এবং ২০১৬ সালে সংশোধিত ভারত-বাংলাদেশ প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী অপরাধীদের হস্তান্তরের নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। তবে এই চুক্তিতে রাজনৈতিক অপরাধে অভিযুক্তদের প্রত্যর্পণের আওতার বাইরে রাখারও সংস্থান রাখা হয়েছে, যা বর্তমান পরিস্থিতির ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।