মহাভারতের সেই চর্চিত খেলায় আজও মেতে ওঠে বীরভূমের পুরো গ্রাম?

মহাভারতের সেই চর্চিত খেলায় আজও মেতে ওঠে বীরভূমের পুরো গ্রাম?

ইতিহাসের পাতা থেকে মুছে যায়নি পাশা খেলার রেওয়াজ। কুরুক্ষেত্রের মহাকাব্যিক পটভূমির সেই খেলা আজ এক নতুন সামাজিক আখ্যানের জন্ম দিচ্ছে বীরভূমের সিউড়ি-২ ব্লকের মাজিগ্রামে। গ্রামে সন্ধ্যা নামলেই অন্নপূর্ণা মন্দিরে জড়ো হন প্রবীণ ও মধ্যবয়সীরা। প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত সেখানে জমে ওঠে পাশার আসর। কাপড়ের ছেঁড়া বোর্ড, কাঠের ঘুঁটি আর হাতির দাঁতের তৈরি দাবি করা ডাইসকে ঘিরে চলে এই আয়োজন। পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে শেখা নিয়মেই কোনো আর্থিক লেনদেন ছাড়াই প্রজন্মের পর প্রজন্ম মেতে উঠেছে ঐতিহ্য রক্ষায়।

মাজিগ্রামের বাসিন্দা প্রশান্ত ঘোষ জানান, বাবা-দাদাদের কাছ থেকে ছোটবেলায় তাঁর এই খেলায় হাতেখড়ি। দীর্ঘ সময় হারিয়ে থাকা বোর্ডটি কয়েক মাস আগে নতুন করে খুঁজে পাওয়ার পর গ্রামটিতে ফের জমে উঠেছে এই পুরোনো রেওয়াজ। স্থানীয় বাসিন্দা রথীনকুমার ঘোষের মতে, খেলা নিয়ে সাময়িক বচসা হলেও পরক্ষণেই আবার সবাই মিলেমিশে এক হয়ে যান। ইতিহাসবিদ অমিয় ঘোষের ধারণায়, ডাইসগুলো ঐতিহ্যবাহী কোনো সম্ভ্রান্ত পরিবারের সম্পদ হতে পারে। বিশ্বভারতীর ইতিহাসের অধ্যাপক অতীগ ঘোষ জানান, এই প্রাচীন খেলা বাংলার মাটি থেকে হারিয়ে না গিয়ে মানুষকে আজও একসুতোয় বেঁধে রেখেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *