“তৃণমূল জিরো, সিপিএম বিলুপ্ত!” এসআইআর ইস্যুতে জ্ঞানেশ কুমারের পাশে দাঁড়িয়ে বিস্ফোরক লকেট

কৃষ্ণনগরে সাংবাদিক সম্মেলন করে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় ফেলা বক্তব্য রাখলেন বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়। রেজিনগরে ভোটের প্রচারে যাওয়ার আগে একদিকে বিরোধীদের একজোট হওয়া নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেন তিনি, অন্যদিকে বিতর্কিত এসআইআর (SIR) ইস্যুতে জ্ঞানেশ কুমারের পদক্ষেপকে পূর্ণ সমর্থন জানান।
জ্ঞানেশ কুমারের পাশে বিজেপি জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ওঠা পুরনো মামলা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে লকেট স্পষ্ট জানান, “যেখানে যেখানে এসআইআর হয়েছে, সেখানে দেখা গিয়েছে বহু মানুষ প্রকৃত নাগরিক ছিলেন না এবং তাঁদের নাম বাদ পড়েছে। জ্ঞানেশ কুমার যা করেছেন তা দেশের সুরক্ষা ও পশ্চিমবঙ্গের মানুষের স্বার্থেই করেছেন। তিনি কোনো ভুল কাজ করেননি।”
“পায়ের তলায় মাটি নেই বিরোধীদের” সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলন ও বিরোধীদের জোটে নাম দেওয়া প্রসঙ্গে সপাট জবাব দিয়ে লকেট বলেন, “যাদের পায়ের তলায় কোনো রাজনৈতিক মাটি নেই, তারাই এখন ‘ককরোচ’-দের সঙ্গে চলতে চাইছে। ‘জেন জি’ আন্দোলনকারীদের আড়ালে মূলত বিরোধী দলগুলোর মুখই লুকিয়ে রয়েছে। ছাত্ররা দেশের ভবিষ্যৎ, কিন্তু বিরোধীরা নিজেদের স্বার্থে ছাত্রদের দেশবিরোধী পথে চালিত করার চেষ্টা করছে, যা আমরা হতে দেব না।”
“তৃণমূল শূন্য, সিপিএম বিলুপ্ত” রাজ্যের বিরোধী ও শাসকদলকে একযোগে আক্রমণ করে বিজেপি নেত্রী দাবি করেন, “বামফ্রন্ট ও তৃণমূল মিলে বাংলাটাকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে। বর্তমানে তৃণমূলের কোনো অস্তিত্ব নেই, তারা শূন্য হয়ে গিয়েছে। আর সিপিএম তো বিলুপ্ত। তৃণমূলের লোগো এখন আদালতের হাতে, দলটা ওপর-নিচ, ডান-বাম সব দিকে টুকরো হয়ে গেছে। কেবল মিডিয়ায় ভেসে থাকতেই তারা হঠাৎ সোচ্চার হওয়ার চেষ্টা করছে।”
বিকাশ ও কোয়েল মল্লিক প্রসঙ্গ রাজ্যের উন্নয়ন এবং অন্নপূর্ণা প্রকল্প প্রসঙ্গে আশ্বাস দিয়ে লকেট জানান, “যোগ্য অন্নপূর্ণা প্রকল্পের সুবিধা প্রত্যেকে পাবেন, কাউকে বাদ দেওয়া হবে না। আমরা হিংসায় নয়, বিকাশে বিশ্বাসী।”
একই সঙ্গে অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিকের বিষয়ে তিনি বলেন, “তিনি নিজে ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। তৃণমূল পার্টিটার আসল অবস্থা বুঝতে পেরে এবং বিজেপির আদর্শে কাজ করার সুযোগ দেখেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।”