আবাস যোজনায় কোটি কোটি টাকার কেলেঙ্কারী! ধৃত প্রাক্তন বিধায়কের পিএ

মঙ্গলকোট / কাটোয়া: প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় কোটি কোটি টাকার মহা-দুর্নীতির অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়ালো পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোটে। এই ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে পুলিশ গ্রেফতার করেছে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অপূর্ব চৌধুরীর পার্সোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট (PA) তথা ব্যক্তিগত সহকারী রাজেশ চৌধুরীকে।
রবিবার ধৃতকে কাটোয়া মহকুমা আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে ৪ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
কীভাবে চলত এই বিশাল কারচুপি? পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত রাজেশ চৌধুরী মঙ্গলকোটের কানাইডাঙা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি প্রাক্তন বিধায়কের সহকারী হওয়ার পাশাপাশি ২০২১-২২ অর্থবর্ষে কৈচর-১ পঞ্চায়েতে আবাস প্রকল্পের ‘ফেসিলিটেটর’ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর প্রধান দায়িত্ব ছিল প্রকৃত উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছানো নিশ্চিত করা।
অভিযোগ, তৎকালীন পঞ্চায়েত প্রধান সুফল প্রধানের মদতেই শুরু হয় এই জালিয়াতি চক্র:
- ভুয়ো অ্যাকাউন্ট ও নথি: আসল প্রাপকরা জানতেও পারতেন না যে তালিকায় তাঁদের নাম রয়েছে। তাঁদের নথি ব্যবহার করে টাকা পাঠানো হতো অন্যদের ভুয়ো অ্যাকাউন্টে।
- মৃতের নামেও দুর্নীতি: জালিয়াতির চরম সীমা ছুঁয়ে প্রায় ১০ বছর আগে মারা যাওয়া ব্যক্তির নামেও টাকা তুলে আত্মসাৎ করা হয়েছে।
- টাকা আত্মসাৎ: প্রাপকের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা অন্য জায়গায় ঘুরিয়ে এনে নিজেরা তা ভাগ বাঁটোয়ারা করে নিতেন অভিযুক্তরা।
কীভাবে ফাঁস হলো জালিয়াতি? গত ২ অক্টোবর কানাইডাঙার বাসিন্দা দেবদাস গোস্বামী মঙ্গলকোট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি জানান, তাঁর নামের জন্য বরাদ্দ আবাস প্রকল্পের ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা তিনি পাননি। তাঁর আইডি ব্যবহার করে সেই টাকা অন্য অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করে নেন রাজেশ চৌধুরী ও প্রাক্তন প্রধান সুফল প্রধান।
সেই লিখিত অভিযোগের ভিত্তি করে অভিযান চালিয়ে পুলিশ রাজেশ চৌধুরীকে গ্রেফতার করে। তবে এই কোটি টাকার চক্রে আর কোন কোন প্রভাবশালী যুক্ত রয়েছেন, তার জট ছাড়াতে তদন্তে নেমেছে মঙ্গলকোট থানার পুলিশ।