মা উড়ালপুলে বেপরোয়া গাড়ির তাণ্ডব! পর পর ৬ বাহনে ধাক্কা, গুরুতর জখম পুলিশ অফিসারসহ ৩

মা উড়ালপুলে বেপরোয়া গাড়ির তাণ্ডব! পর পর ৬ বাহনে ধাক্কা, গুরুতর জখম পুলিশ অফিসারসহ ৩

কলকাতা: ব্যস্ত সময়ে ফের শিরোনামে কলকাতার মা ফ্লাইওভার। সোমবার রাত সাড়ে সাতটা নাগাদ বেপরোয়া এক চারচাকার চালকের তাণ্ডবে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল উড়ালপুলে। অনিয়ন্ত্রিত গতিতে এসে একটি গাড়ি পর পর তিন টি বাইক এবং তিন টি চারচাকায় সজোরে ধাক্কা মারে। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় পঞ্চসায়র থানার সাব ইনস্পেক্টর (SI) রত্নাংশু মণ্ডল-সহ মোট তিন জন গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার পরপরই সুযোগ বুঝে চম্পট দিয়েছে অভিযুক্ত গাড়িচালক।

ঠিক কী ঘটেছিল? পুলিশ সূত্রে খবর, সোমবার সন্ধ্যায় একটি মামলার তদন্ত শেষ করে পার্ক সার্কাসের দিক থেকে নিজের গাড়িতে করে পঞ্চসায়র থানায় ফিরছিলেন সাব ইনস্পেক্টর রত্নাংশু মণ্ডল। রুবিগামী ওই সড়কে হঠাৎই একটি গাড়ি বেপরোয়া গতিতে এসে ইএম বাইপাস সংলগ্ন চিংড়িহাটার দিকে বাঁক নেওয়ার চেষ্টা করে। অতিরিক্ত গতির কারণেই চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন এবং প্রথমে পর পর তিনটি বাইকে ধাক্কা মারেন।

গতির তেজ এতটাই বেশি ছিল যে, বাইকগুলোতে ধাক্কা মেরেও গাড়িটি থামেনি। এর পর একে একে আরও তিনটি চারচাকা গাড়িতে সজোরে স্লাইড করে ধাক্কা মারে ঘাতক বাহনটি। যে গাড়িগুলির মধ্যে একটিতে সওয়ার ছিলেন সাব ইনস্পেক্টর রত্নাংশু মণ্ডল নিজেও।

উদ্ধারকাজ ও ট্রাফিক সচল: ঘটনার আকস্মিকতায় উড়ালপুলে সাময়িক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে এবং কিছুক্ষণের জন্য যান চলাচল থমকে যায়। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় প্রগতি ময়দান থানার পুলিশ। দ্রুত রক্তাক্ত অবস্থায় এসআই রত্নাংশু মণ্ডল এবং বাকি দুই আহত বাইক আরোহীকে উদ্ধার করে ইএম বাইপাসের ধারের একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সেখানেই তাঁদের চিকিৎসা চলছে। দুর্ঘটনার জেরে ফ্লাইওভারে সাময়িক যানজট তৈরি হলেও পুলিশের তৎপরতায় দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়।

তদন্তে পুলিশ ও সিসিটিভি স্ক্যান: দুর্ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত গাড়ির চালক পলাতক। তাঁর সন্ধানে শহরের বিভিন্ন মোড়ের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে পুলিশ। চালক মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন, নাকি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এই নিয়ন্ত্রণ হারানো—তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, মা উড়ালপুলে সর্বোচ্চ গতিসীমা ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার নির্ধারণ করা থাকলেও এবং পুলিশি নজরদারি বজায় থাকা সত্ত্বেও বেপরোয়া গতির কারণে প্রায়শই এমন প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটছে। নতুন করে এই দুর্ঘটনা মা ফ্লাইওভারের ট্রাফিক নিরাপত্তা নিয়ে ফের বড় প্রশ্ন তুলে দিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *