‘মানহানির মামলা করব!’ মহুয়া মৈত্রের তোপ দাগতেই আইনি হুঁশিয়ারি মুখ্য সচিব মনোজ আগরওয়ালের

‘মানহানির মামলা করব!’ মহুয়া মৈত্রের তোপ দাগতেই আইনি হুঁশিয়ারি মুখ্য সচিব মনোজ আগরওয়ালের

কলকাতা: তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের মারাত্মক অভিযোগের মুখে এবার কড়া জবাব দিলেন রাজ্যের বর্তমান মুখ্য সচিব তথা প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) মনোজ কুমার আগরওয়াল। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, প্রমাণ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে এমন ভিত্তিহীন অভিযোগ করা গ্রহণযোগ্য নয়। শুধু তাই নয়, মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে এবার মানহানির মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

কী বললেন মনোজ কুমার আগরওয়াল? নিউজ১৮ বাংলাকে দেওয়া একান্ত টেলিফোনিক সাক্ষাৎকারে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে মনোজ কুমার আগরওয়াল বলেন, “আমি সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছি। বেআইনিভাবে কারও নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়নি। আমি কোনো ভুল কাজ করিনি এবং যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে প্রস্তুত।”

তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন যে, সিইও-র কাছে নিজের ইচ্ছেমতো ভোটার তালিকায় নাম তোলা বা বাদ দেওয়ার মতো একক ক্ষমতা থাকে না। এই ক্ষমতা থাকে ইআরও (ERO), জেলা নির্বাচনী আধিকারিক এবং আপিল কর্তৃপক্ষের হাতে। সুব্রত গুপ্ত সম্পর্কে তিনি জানান, পর্যবেক্ষক হিসেবে তাঁর কোনো বিধিবদ্ধ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ছিল না; কোনো অনিয়ম দেখলে তাঁর কাজ ছিল নির্বাচন কমিশনকে রিপোর্ট করা।

বর্তমানে পুরো বিষয়টি অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেলকে জানিয়েছেন মনোজ আগরওয়াল। আইনি পরামর্শ নেওয়ার পাশাপাশি তিনি লক্ষ্মণরেখার মধ্যে থেকে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার পথেই হাঁটছেন।

কী অভিযোগ তুলেছিলেন মহুয়া মৈত্র? মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিতর্কের মাঝেই এক্স (টুইটার) মাধ্যমে সুব্রত গুপ্ত এবং মনোজ আগরওয়ালের ছবি পোস্ট করেছিলেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। সেই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, এরাই বাংলায় ভোটার তালিকা সংক্রান্ত ‘এসআইআর’ (SIR)-এর মূল কারিগর এবং সমস্ত অবৈধ কাজের সঙ্গে যুক্ত।

সুপ্রিম কোর্টে অস্বস্তিতে নির্বাচন কমিশন: অন্যদিকে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একটি মামলায় কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনকে কড়া নোটিস পাঠিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এক সপ্তাহের মধ্যে শীর্ষ আদালতে জবাব জমা দিতে হবে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, সংশোধিত ‘ফর্ম ৬’-এ অতিরিক্ত ঘোষণাপত্র যুক্ত করার বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের কোনো অনুমোদন ছিল না। গত ২৬ সেপ্টেম্বর কমিশন যে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে দাবি করেছিল, এই সংশোধিত ফর্ম শীর্ষ আদালতের অনুমোদিত— তা সোমবার সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *