৬০ দিন বেআইনি জেলবাস! চা-শ্রমিক বিজেপি নেতাকে ৫.৩৬ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ হাইকোর্টের

তৃণমূল জমানায় পুলিশের ‘বেআইনি’ পদক্ষেপের জেরে চরম অস্বস্তিতে রাজ্য সরকার। জামিন পাওয়ার পরও এক বিজেপি কর্মীকে টানা ৬০ দিন বেআইনিভাবে জেলে আটকে রাখার অভিযোগে রাজ্য সরকারকে ৫ লক্ষ ৩৬ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কড়া নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট।
বিচারপতি দেবাংশু বসাক এবং বিচারপতি আর্যক দত্তের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, পুলিশি হেনস্থা ও অবৈধ আটকের কারণে ওই কর্মীকে যে মানসিক অত্যাচার ও অবসাদের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, তার দায় রাজ্য প্রশাসনকেই নিতে হবে।
কী ঘটেছিল? ভুক্তভোগী ব্যক্তির নাম জয়কৃষ্ণ নাগ। তিনি আলিপুরদুয়ারের কুমারগ্রামের এক চা বাগান শ্রমিক এবং বিজেপির শ্রমিক সংগঠনের সাথে যুক্ত। ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত ভোটে তাঁর স্ত্রী নির্দল প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন এবং পরবর্তীতে বিজেপিতে যোগ দিয়ে প্রত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। অভিযোগ, ভোট মেটার পরেই জয়কৃষ্ণবাবু ও তাঁর পরিবারের ওপর শুরু হয় চরম রাজনৈতিক প্রতিহিংসা। একের পর এক ৩টি মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
জামিন সত্ত্বেও ৬০ দিন জেলবাস আদালত সূত্রে জানা গেছে, ৩টি মামলাতেই আদালতের তরফ থেকে জামিন পেয়ে গিয়েছিলেন জয়কৃষ্ণবাবু। তা সত্ত্বেও ২০১৮ সালের ৬ অগাস্ট থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত—টানা ৬০ দিন তাঁকে জোর করে জেলে আটকে রাখা হয়। হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ এই সময়কালকে সম্পূর্ণ ‘অবৈধ আটক’ বলে ঘোষণা করেছে।
ক্ষতিপূরণের হিসাব: জয়কৃষ্ণ নাগের আইনজীবী অর্ণব সাহা জানান, হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী ক্ষতিপূরণের অঙ্ক নির্ধারণ করা হয়েছে এভাবে:
- মানসিক নির্যাতন ও অবসাদের জন্য: ৫ লক্ষ টাকা।
- বকেয়া মজুরি (চা শ্রমিকের দৈনিক ৬০০ টাকা ধরে ৬০ দিন): ৩৬,০০০ টাকা।
তৃণমূল জমানায় পুলিশের ক্ষমতার অপব্যবহার ও অন্যায় আটকের খেসারত হিসেবে রাজ্য কোষাগার থেকেই এখন এই ৫ লক্ষ ৩৬ হাজার টাকা মেটাতে হবে প্রশাসনকে।