পুজোর ছুটিতে বন্ধ থাকবে না চিকিৎসা! গর্ভবতী মায়েদের জন্য স্বাস্থ্য দফতরের বড় স্বস্তি

উৎসবের মরসুমে সর্বত্রই ছুটির মেজাজ। কিন্তু এই সময় জরুরি চিকিৎসাসেবা মিলবে তো? হাসপাতালে গেলে ‘ডাক্তার নেই’ শুনতে হবে না তো? উৎসবের মুখে এই ধরনের সমস্ত আশঙ্কা দূর করতে বড় পদক্ষেপ করল রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। দুর্গোৎসবের দিনগুলিতে গর্ভবতী মায়েদের স্বাস্থ্যে যাতে কোনো ঘাটতি না থাকে, তার জন্য জেলা থেকে শুরু করে কলকাতার হাসপাতালগুলির জন্য জারি করা হয়েছে কড়া নির্দেশিকা।
থাকছে সারপ্রাইজ ভিজিট ও ডিউটি রোস্টার স্বাস্থ্য দফতরের স্পষ্ট বার্তা—পুজোর সময়ে ভর্তি হওয়া প্রসূতি রোগীদের চিকিৎসায় কোনো ত্রুটি সহ্য করা হবে না।
- ডিউটি রোস্টার: চিকিৎসকদের ডিউটির তালিকা আগে থেকেই তৈরি রাখতে হবে। তালিকা প্রস্তুতকারীর নাম, পদ ও যোগাযোগের নম্বর স্পষ্টভাবে লিখিত থাকবে।
- সারপ্রাইজ ভিজিট: হাসপাতালগুলিতে আচমকা পরিদর্শনে যেতে পারেন জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক (CMOH), হাসপাতালের সুপারিন্টেন্ডেন্ট বা হেড অফ দ্য ডিপার্টমেন্ট।
- সিনিয়র ডাক্তারদের উপস্থিতি: জেলা, মহকুমা ও স্টেট জেনারেল হাসপাতালগুলিতে ২৪ ঘণ্টাই সিনিয়র গাইনোকোলজিস্ট থাকা বাধ্যতামূলক। মেডিক্যাল কলেজগুলিতে সিজারিয়ান ডেলিভারির সময় গাইনোকোলজি বিভাগের ফ্যাকাল্টি মেম্বারদের সশরীরে উপস্থিত থাকতে হবে। গ্রাম বা ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলিতে সিজারের সময় অভিজ্ঞ মেডিক্যাল অফিসার থাকা আবশ্যক।
হাই-রিস্ক প্রেগন্যান্সি ও ‘ওয়েটিং হাট’ জরুরি পরিস্থিতিতে উচ্চ ঝুঁকিযুক্ত গর্ভবতী মায়েদের ডেলিভারির শেষ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা না করে আগেই চিহ্নিত করতে বলা হয়েছে। প্রত্যন্ত ও দূরবর্তী এলাকার প্রসূতিদের দ্রুত চিকিৎসাকেন্দ্রে পৌঁছানোর জন্য ফিল্ড ওয়ার্কারদের সর্বদা প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে তাঁদের আগেই হাসপাতালের কাছাকাছি অবস্থিত ‘ওয়েটিং হাট’-এ রাখার ব্যবস্থা করা হবে।
২৪ ঘণ্টা পরিষেবা ও নো-রেফার নীতি
- ব্লাড ব্যাঙ্ক ও অ্যাম্বুল্যান্স: প্রসূতিদের অতিরিক্ত রক্তপাতের মতো জরুরি পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্লাড ব্যাঙ্কগুলির সঙ্গে আগাম সমন্বয় রাখতে হবে। অ্যাম্বুল্যান্স, ডায়াগনস্টিক এবং ব্লাড ব্যাঙ্ক ২৪ ঘণ্টা সচল রাখা বাধ্যতামূলক।
- হুটহাট রেফার বন্ধ: ছোট বা গ্রামীণ হাসপাতাল থেকে না বুঝিয়ে হুট করে রোগী অন্য হাসপাতালে রেফার করা যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর।