‘কম্পিউটার শেখাচ্ছিলাম!’— ক্লাসরুমে নাবালিকার সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় ধরা পড়ে শিক্ষকের অদ্ভুত সাফাই

মালদা: বিদ্যালয়ের ক্লাসরুমের ভেতরেই নবম শ্রেণির এক নাবালিকা ছাত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় হাতেনাতে ধরা পড়লেন মধ্যবয়স্ক এক শিক্ষক। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে মালদার হরিশ্চন্দ্রপুর থানা এলাকায়। ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী অভিযুক্ত শিক্ষককে গণপিটুনি দেয় এবং নাবালিকা ছাত্রীকে ক্লাসরুমে আটকে রেখে স্কুলের বাইরে তুমুল বিক্ষোভ শুরু করে।
কী ঘটেছিল? স্থানীয় অধিবাসীদের অভিযোগ, বেশ কিছুদিন ধরেই ৪৫ বছর বয়সি ওই শিক্ষক এবং ১৫ বছরের নবম শ্রেণির ওই ছাত্রী প্রতিদিন স্কুল শুরুর অনেক আগেই সাতসকালে স্কুলে চলে আসতেন। তাঁদের এই নিয়মিত ভোরে আসা নিয়ে স্থানীয়দের মনে সন্দেহের দানা বাঁধছিল। সোমবার সকালে আবারও একই ভাবে দু’জনে স্কুলে এলে গ্রামবাসীরা তাঁদের ওপর কড়া নজর রাখা শুরু করেন। কিছুক্ষণ পর তাঁরা ক্লাসরুমে ঢুকেই দু’জনকে আপত্তিকর অবস্থায় ধরে ফেলেন বলে অভিযোগ।
পুলিশের পদক্ষেপ ও উদ্ধার ঘটনার পর মুহূর্তেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন গ্রামবাসীরা। অভিযুক্ত শিক্ষককে ধরে বেধড়ক মারধর করা হয়। অন্য দিকে, নাবালিকা ছাত্রীকে ঘরের ভেতর আটকে রেখে স্কুলের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে দ্রুত হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং উত্তেজিত জনতার হাত থেকে শিক্ষক ও ছাত্রীকে উদ্ধার করে। নাবালিকাকে তার পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
শিক্ষকের সাফাই যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত শিক্ষক। আটক হওয়ার পর তাঁর দাবি, তিনি ওই ছাত্রীকে শুধুই কম্পিউটার শেখানোর জন্য সকালে স্কুলে ডেকেছিলেন, অন্য কোনো অসৎ উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না। পুলিশ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনি তদন্ত শুরু করেছে।