পুজোয় মিলবে না ‘ডাক্তার নেই’ অজুহাত! প্রসূতিদের চিকিৎসায় কড়া নির্দেশিকা স্বাস্থ্য দপ্তরের
October 6, 20261:03 pm

কলকাতা: দুর্গাপুজোর আমেজে যখন মেতে উঠবে গোটা বাংলা, তখন সরকারি হাসপাতালে প্রসূতিরা কি সঠিক চিকিৎসা পরিষেবা পাবেন? নাকি শুনতে হবে সেই চেনা উত্তর— ‘ডাক্তার নেই’? উৎসবের দিনগুলিতে গর্ভবতী মায়েদের এই চিন্তা দূর করতে এবার কঠোর অবস্থান নিল রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর। দুর্গোৎসবের দিনগুলিতে প্রসূতিদের নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসা সুনিশ্চিত করতে হাসপাতালগুলির জন্য জারি করা হয়েছে একগুচ্ছ কড়া নির্দেশিকা।
স্বাস্থ্য দপ্তরের গাইডলাইনের প্রধান দিকগুলি:
- ডিউটি রোস্টার ও সারপ্রাইজ ভিজিট: পুজো শুরুর আগেই চিকিৎসকদের ডিউটির বিশদ তালিকা (রোস্টার) তৈরি করতে হবে, যেখানে চিকিৎসক ও কর্মীদের নাম, পদবী এবং যোগাযোগের নম্বর স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে। চিকিৎসা পরিষেবায় কোনো ফাঁকি থাকছে কিনা, তা দেখতে যে কোনো মুহূর্তে জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক (CMHO), হাসপাতালের সুপারিন্টেন্ডেন্ট কিংবা গাইনোকোলজি বিভাগের প্রধানরা সারপ্রাইজ ভিজিটে যেতে পারেন।
- অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক: জেলা, মহকুমা ও স্টেট জেনারেল হাসপাতালগুলিতে ২৪ ঘণ্টা সিনিয়র গাইনোকোলজিস্ট থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। মেডিক্যাল কলেজগুলিতে সিজারিয়ান ডেলিভারির সময় গাইনোকোলজি বিভাগের ফ্যাকাল্টি মেম্বারদের সশরীরে উপস্থিত থাকতে হবে। এমনকি গ্রামীণ ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতেও সিজারের সময় অভিজ্ঞ মেডিক্যাল অফিসারদের উপস্থিতি আবশ্যিক।
- ‘হাই-রিস্ক’ প্রসূতিদের আগাম চিহ্নিতকরণ: জটিল বা ‘হাই-রিস্ক’ প্রেগন্যান্সির রোগীদের তালিকা আগেই প্রস্তুত করতে হবে। প্রত্যন্ত এলাকার গর্ভবতীদের প্রসবের জন্য শেষ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা না করে, প্রয়োজনে আগেই তাঁদের হাসপাতালের কাছাকাছি ‘ওয়েটিং হাটে’ এনে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রস্তুত রাখা হচ্ছে ফিল্ড ওয়ার্কারদেরও।
- জরুরি পরিষেবা ও রক্তের ব্যবস্থা: প্রসূতিদের সুবিধার্থে ২৪ ঘণ্টা অ্যাম্বুল্যান্স, ডায়াগনস্টিক এবং ব্লাড ব্যাংক সচল রাখতে হবে। প্রসবকালীন রক্তপাতের মতো জরুরি পরিস্থিতি সামলাতে ব্লাড ব্যাংকগুলির সাথে আগাম সমন্বয় রাখতে বলা হয়েছে।
- হুটহাট রেফার বন্ধের কড়া বার্তা: গ্রামীণ বা ছোট হাসপাতালগুলি থেকে অকারণে প্রসূতিদের অন্য হাসপাতালে রেফার করা যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে স্বাস্থ্য দপ্তর।
উৎসবের মরশুমে শহরের বুক থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রাম— সব জায়গার গর্ভবতী মায়েরা যাতে সময়মতো সেরা চিকিৎসা পান, সেটাই নিশ্চিত করতে চাইছে রাজ্য সরকার।