ড্রোনের হামলা রুখতে মাছ ধরার জাল, টিটিপির ভয়ে পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের আজব দাওয়াই

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ায় তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান বা টিটিপির লাগাতার ড্রোন হামলা মোকাবিলায় এক নজিরবিহীন কৌশল অবলম্বন করেছে পাক সেনা। সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের নির্দেশে সীমান্তবর্তী অঞ্চলের সেনাক্যাম্প এবং পুলিশ চেকপোস্টগুলির ছাদে ও চারপাশে টাঙানো হচ্ছে মাছ ধরার জাল। চলতি বছরেই সারকি পিয়ালা পুলিশ চেকপোস্টসহ এই অঞ্চলে অন্তত ১৬ বার ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে, যার ফলে আতঙ্কে সেনা ব্যারাক থেকে বের হতেও ভয় পাচ্ছেন জওয়ানরা। পাক সেনার মূল ভাবনা হলো, উড়ে আসা ড্রোনের প্রপেলার এই জালে আটকে যাবে এবং বিস্ফোরণের আগেই তা নিষ্ক্রিয় করা সম্ভব হবে। আধিকারিকদের দাবি, ড্রোনের সরাসরি আঘাত থেকে রক্ষা পেয়ে ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেমের বিপুল খরচের কারণেই মূলত এমন সস্তা ও বিকল্প পথ বেছে নিয়েছে পাকিস্তান প্রশাসন। যেখানে একটি পূর্ণাঙ্গ অ্যান্টি-ড্রোন ব্যবস্থা কিনতে ৫ হাজার থেকে প্রায় ৫০ লাখ ডলার পর্যন্ত খরচ হয়, সেখানে পুরো ফাঁড়ি জাল দিয়ে ঢাকতে ব্যয় হচ্ছে মাত্র ১.৩০ লক্ষ টাকার মতো। কোহাত, বান্নু এবং ডেরা ইসমাইল খানসহ একাধিক স্পর্শকাতর সামরিক ঘাটিতে ইতিমধ্যেই এই পরিকাঠামো বসানো হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, চিনের তৈরি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ব্যর্থতার পর গৃহীত এই অভিনব পদক্ষেপে বাস্তবে কাজের কাজ বিশেষ কিছু হবে না। এটি জওয়ানদের কেবল একটি সাময়িক ও ভুয়ো নিরাপত্তার অনুভূতি জোগাবে, কারণ টিটিপি মূলত বড় এলাকায় হামলা চালিয়ে আতঙ্ক তৈরি করতে চায়।