মেক্সিকো সীমান্তে মাদক কার্টেলের তাণ্ডব! ড্রোন ধ্বংস করতে নামল মার্কিন ‘লেজার’ অস্ত্র

মেক্সিকো সীমান্তে মাদক কার্টেলের তাণ্ডব! ড্রোন ধ্বংস করতে নামল মার্কিন ‘লেজার’ অস্ত্র

মেক্সিকো সীমান্ত দিয়ে মাদক ও মানব পাচারকারীদের ড্রোন ব্যবহারের প্রবণতা মারাত্মক আকার ধারণ করায় কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে মার্কিন সেনা। সীমান্তে অপরাধী চক্রগুলির তৎপরতা রুখতে এবং আধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে চোরাচালান ভেস্তে দিতে এবার মাঠে নামানো হয়েছে অত্যাধুনিক লেজার অস্ত্র ও অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম।

সম্প্রতি অ্যারিজোনার ইউমা প্রভিং গ্রাউন্ডে মার্কিন নর্দান কমান্ডের উদ্যোগে ‘ফ্যালকন পিক’ (Falcon Peak) নামক একটি বিশেষ প্রতিরক্ষা মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। সীমান্তে আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্রগুলি যাতে কোনোভাবেই যুদ্ধক্ষেত্রের প্রযুক্তি ব্যবহার করতে না পারে, তার জন্যই সেনাকে এই আগাম প্রস্তুতি নিতে দেখা যাচ্ছে। এই মহড়ায় হাইটেক রাডার, ইন্টারসেপ্টর ড্রোন এবং স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের প্রদর্শন করা হয়।

৩০ দিনে ৩৭৮ বার ড্রোন অনুপ্রবেশ! মার্কিন সেনার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কেবল গত এক মাসেই সীমান্ত এলাকায় ৩৭৮ বার ড্রোন অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেছে। এই ড্রোনগুলির অধিকাংশই বাণিজ্যিক ক্যামেরা ড্রোন, যা চোরাচালানকারীরা নজরদারির কাজে ব্যবহার করছে। ‘জয়েণ্ট টাস্ক ফোর্স সাউথান বর্ডার’-এর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ব্রায়ান ফিলার জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইতোমধ্যেই সীমান্ত এলাকায় শক্তিশালী লেজার প্রযুক্তি মোতায়েন করা হয়েছে এবং সেনা ইতিমধ্যেই মাদক কার্টেলদের ১১টি ড্রোন সফলভাবে ধ্বংস করেছে।

ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে শিক্ষা ও ভবিষ্যতের প্রস্তুতি যদিও বর্তমানে সীমান্তে কোনো বিস্ফোরকবাহী ড্রোন ধরা পড়েনি, তবে মেক্সিকোর ভেতরে মাদক চক্রগুলির অস্ত্রসজ্জিত ড্রোন ব্যবহারের খবর ওয়াশিংটনের চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে মার্কিন প্রশাসন দ্রুত নিজেদের অ্যান্টি-ড্রোন প্রযুক্তি আপডেট করছে। এই মহড়ায় ‘অ্যান্ড্রিল’ এবং ‘শিল্ড এআই’-এর মতো প্রথম সারির প্রযুক্তি সংস্থার তৈরি এআই রাডার ও ড্রোন ধ্বংসকারী সরঞ্জাম পরীক্ষা করা হয়।

সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্ত সুরক্ষায় সৈন্যদের আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তোলাই এখন আমেরিকার মূল লক্ষ্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *