‘২০১৬-র রেকর্ডও চুরমার হবে!’ নন্দীগ্রামে ভোট দিয়ে বিরাট দাবি শুভেন্দুর

নন্দীগ্রাম: উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণে সরগরম রাজ্যের দুই হাই-ভোল্টেজ কেন্দ্র নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর। মঙ্গলবার সকালে নন্দনায়কবাদ প্রাইমারি স্কুলে গিয়ে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন বিজেপি নেতা ও রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। ভোটদান পর্ব সেরে বুথের ২০০ মিটার দূরে বিজেপি ক্যাম্পে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি। সেখানে যেমন নিজের জয়ের ব্যাপারে চরম আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন, তেমনই বিরোধী শিবিরকে তোপ দাগেন।
‘২০১৬ সালের রেকর্ড ভাঙবে বিজেপি’ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু বলেন, “নন্দীগ্রামের ভোটার হিসেবে এখানকার মানুষের সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের নিবিড় সম্পর্ক। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে আমি এই কেন্দ্র থেকে সর্বাধিক ৮২ হাজার ভোটে জয়ী হয়েছিলাম। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, এবারের উপনির্বাচনে মানুষ সেই রেকর্ডও চুরমার করে দেবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উন্নয়ন ও নীতির ওপর পূর্ণ আস্থা রেখেই মানুষ পদ্মফুলে ভোট দিচ্ছেন।”
তিনি আরও জানান, ইতিমধ্যেই ৫০ শতাংশের বেশি ভোট গ্রহণ হয়ে গিয়েছে। শেষ পর্যন্ত ভোটদানের হার ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশে পৌঁছলে জয়ের মার্জিন ঐতিহাসিক হবে। তবে ভোটের হার ৭০ শতাংশের আশপাশে থাকলেও বিজেপির জয় নিশ্চিত। বিরোধী শিবিরের এখানে কোনো সুযোগ নেই বলে সাফ জানিয়ে দেন তিনি।
‘আমৃত্যু নন্দীগ্রামেরই ভোটার থাকব’ এদিন এলাকার প্রতি নিজের অঙ্গীকার প্রকাশ করে তিনি জানান, নিয়ম অনুযায়ী দুটি বিধানসভা একসঙ্গে রাখা যায় না, তবে নন্দীগ্রামের সঙ্গে তাঁর নাড়ির টান আলাদা। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, “নন্দনায়কবাদ বা নন্দীগ্রামের প্রতি আমার স্পষ্ট অঙ্গীকার, আমৃত্যু আমার নাম এই নন্দনায়কবাদ বুথের ভোটার তালিকাতেই থাকবে। আমি এখান থেকে কোনোদিন নাম কাটাচ্ছি না।”
হুমায়ুনের গ্রেফতারি নিয়ে কড়া বার্তা ভোটের দিন সকালে রেজিনগরে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীরের গ্রেফতারি প্রসঙ্গেও প্রতিক্রিয়া জানান তিনি। কড়া ভাষায় বলেন, “আইন সবার জন্যই সমান। কেউ নিয়ম ভাঙলে আইন নিজের পথে চলবে। আমি নিজেও যদি নিয়ম ভেঙে বুথে বুথে ঘুরে বেড়াই, তবে পুলিশ আমাকেও আটক করতে পারে। ভোট দেওয়া শেষ হলে প্রত্যেকের সোজা বাড়ি ফিরে যাওয়া উচিত।”