জন্মলগ্নেই শিশুর মারাত্মক বিপদ! সেরিব্রাল পালসি কী? জানুন সতর্ককারী লক্ষণ

জন্মলগ্নেই শিশুর মারাত্মক বিপদ! সেরিব্রাল পালসি কী? জানুন সতর্ককারী লক্ষণ

বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক স্নায়ুতন্ত্রের এক বিশেষ জটিলতার মুখোমুখি হন, যার নাম সেরিব্রাল পালসি (Cerebral Palsy)। মূলত গর্ভাবস্থায়, জন্মকালে অথবা জন্মের পরপরই শিশুর মস্তিষ্কে কোনো আঘাত লাগলে বা মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বিকাশ ব্যাহত হলে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়। এই রোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে এবং আক্রান্তদের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে প্রতি বছর ৬ অক্টোবর বিশ্বজুড়ে পালিত হয় ‘বিশ্ব সেরিব্রাল পালসি দিবস’।

সেরিব্রাল পালসি আসলে কী? চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়, ‘সেরিব্রাল’ (Cerebral) কথাটি মস্তিষ্কের সঙ্গে যুক্ত এবং ‘পালসি’ (Palsy) মানে শরীরের দুর্বলতা বা অনিয়ন্ত্রিত কম্পন। মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট অংশে ক্ষতির কারণে শরীরের পেশি নিয়ন্ত্রণ, নড়াচড়া, অঙ্গভঙ্গি এবং ভারসাম্য রক্ষার ক্ষমতা ব্যাহত হয়।

এই রোগের কি কোনো স্থায়ী নিরাময় আছে? সেরিব্রাল পালসি কোনো সংক্রামক রোগ নয় এবং এটি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজে থেকে মারাত্মক আকার ধারণ করে না। তবে শিশু বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে লক্ষণগুলির ধরন ও দৈনন্দিন জীবনের চ্যালেঞ্জ বদলে যেতে পারে। যদিও এর কোনো পাকাপাকি নিরাময় নেই, তবুও সঠিক সময়ে চিকিৎসা ও থেরাপি শুরু করলে লক্ষণে অনেকটাই উন্নতি সম্ভব এবং শিশু স্বাভাবিক জীবনযাত্রার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে।

কোন কোন লক্ষণ দেখে সাবধান হবেন? মস্তিষ্কের কোনো অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তার ওপর ভিত্তি করে একেক শিশুর মধ্যে লক্ষণ একেক রকম হতে পারে:

  • পেশির অস্বাভাবিকতা: শিশুর শরীর অতিরিক্ত শক্ত বা একেবারে শিথিল হয়ে যাওয়া, যার ফলে চলাফেরা কঠিন হয়ে পড়ে।
  • খিঁচুনি ও দুর্বলতা: হাত বা পায়ে ঘন ঘন মোচড় দেওয়া, অনিয়ন্ত্রিত নড়াচড়া এবং হাঁটাচলায় টানাটানি অনুভব করা।
  • ভারসাম্যের অভাব: নিজে থেকে বসতে, দাঁড়াতে বা সোজা হয়ে হাঁটতে না পারা।
  • খাবার খেতে কষ্ট: খাবার চিবানো, গেলা কিংবা বুকের দুধ পানের সময় মারাত্মক অসুবিধা হওয়া।
  • আচরণগত পরিবর্তন: শিশু সবসময় অতিরিক্ত কান্নাকাটি করা, সহজে শান্ত না হওয়া বা দ্রুত মেজাজ পরিবর্তন হওয়া।
  • বিকাশে বিলম্ব: কথা বলতে সমস্যা, দৃষ্টিশক্তি বা শ্রবণশক্তির ত্রুটি এবং পারিপার্শ্বিক পরিবেশের প্রতি স্বাভাবিক আগ্রহ না দেখানো।

কীভাবে করবেন পরিচর্যা ও চিকিৎসা? বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়ের কাজ সময়ে করাই এই রোগের চিকিৎসায় মূল চাবিকাঠি। সঠিক সময়ে নিচের পদ্ধতিগুলো গ্রহণ করলে শিশুর দৈনন্দিন কার্যক্ষমতা বহুগুণ বাড়ানো সম্ভব:

১. ফিজিওথেরাপি (Physiotherapy): পেশির শক্তি ও চলাফেরার সচলতা বাড়াতে। ২. অকুপেশনাল থেরাপি (Occupational Therapy): জামাকাপড় পরা বা খাওয়ার মতো দৈনন্দিন কাজ শেখাতে। ৩. স্পিচ থেরাপি (Speech Therapy): কথা বলা এবং খাবার গেলার সমস্যা দূর করতে। ৪. প্রয়োজনীয় ওষুধ ও মানসিক সহায়তা: চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ এবং বাবা-মায়ের ধৈর্য ও ভালোবাসা শিশুর লড়াই সহজ করে তোলে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *