বাস্তবের ‘ঠগিনী’! আপ নেতাকে বিয়ের ৬ মাসের মাথায় লাখ টাকা ও গয়না নিয়ে চম্পট ‘সরকারি অফিসার’ স্ত্রী

বাস্তবের ‘ঠগিনী’! আপ নেতাকে বিয়ের ৬ মাসের মাথায় লাখ টাকা ও গয়না নিয়ে চম্পট ‘সরকারি অফিসার’ স্ত্রী

১৯৭৪ সালের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ‘ঠগিনী’-র গল্প যেন সত্য হয়ে নামল পাঞ্জাবে। ছদ্মবেশে প্রেমের অভিনয়, ধুমধাম করে বিয়ে এবং সুযোগ বুঝে টাকা-গয়না নিয়ে চম্পট—ঠিক এমনই প্রতারণার শিকার হয়েছেন আম আদমি পার্টির (AAP) যুগ্ম সম্পাদক অমরিন্দর সিং মান্দোফল। নিজেকে উচ্চপদস্থ সরকারি অফিসার পরিচয় দিয়ে আপ নেতাকে বিয়ে করেছিলেন মনবিন্দর কউর নামের এক নারী। বিয়ের মাত্র ছয় মাসের মাথায় নগদ টাকা ও সোনার গয়না লুট করে উধাও হয়ে গিয়েছেন তিনি।

চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি বেশ জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মনবিন্দরের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন অমরিন্দর। সেই হাইপ্রোফাইল বিয়েতে আমন্ত্রিত ছিলেন পাঞ্জাব বিধানসভার স্পিকার কুলতার সিং সন্ধওয়ান ও মন্ত্রী তরুণপ্রীত সিং সৌন্দ-সহ একাধিক প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। বিয়ের আনন্দে নবদম্পতির সঙ্গে আপ নেতাদের ভাঙড়া নাচের দৃশ্যও ছড়িয়ে পড়েছিল সামাজিক মাধ্যমে।

তবে সেই জাঁকজমকের নেপথ্যে লুকিয়ে ছিল বড় জালিয়াতি। গত ২৭ অগস্ট আচমকাই উধাও হয়ে যান মনবিন্দর। খোঁজাখুঁজি করতেই বেরিয়ে আসে যে, ঘর থেকে ১ লক্ষ টাকার নগদ এবং প্রায় ১৪ ভরি সোনার গয়না নিয়ে চম্পট দিয়েছেন তিনি।

স্ত্রী গা-ঢাকা দেওয়ার পর নিজস্ব উদ্যোগে খোঁজখবর নিতে শুরু করেন অমরিন্দর। আর তাতেই সামনে আসে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য। জানা যায়, নিজেকে সরকারি অফিসার দাবি করা মনবিন্দর সম্পূর্ণ ভুল ও ভুয়া পরিচয় দিয়ে বিয়ে করেছিলেন। তিনি পূর্বেও বিবাহিত ছিলেন এবং তাঁর বিবাহবিচ্ছেদ ঘটেছে। এমনকি প্রথম পক্ষের ১৮ বছরের একটি সন্তানও রয়েছে তাঁর, যা তিনি বিয়ের সময় সম্পূর্ণ গোপন করেছিলেন।

মিথ্যা তথ্য ও ছলনার আশ্রয়ে বিয়ে করার বিষয়টি স্পষ্ট হতেই পাঞ্জাবের ফতেগড় সাহিব থানায় স্ত্রী ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন এই আপ নেতা। পুলিশ মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। মামলায় মনবিন্দর ছাড়াও তাঁর ভাই তারলোচন সিং, মা বরিন্দরজিৎ কউর, তুতো ভাই নরিন্দর সিং গোল্ডি, বৌদি রূপিন্দর কউর এবং সাবেক গ্রাম প্রধান সুরিন্দর সিং রানা—মোট ছয়জনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তরা সকলেই তরন তারন জেলার সুর সিং গ্রামের বাসিন্দা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *