ডুরান্ডের বদলা নাকি ইস্টবেঙ্গলের দাপট? আইএফএ শিল্ডের মহারণে নামার আগে মোহনবাগান কোচের হুঙ্কার

ডুরান্ড কাপের ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্টবেঙ্গলের কাছে হারের তিক্ত অভিজ্ঞতা এখনও সবুজ-মেরুন সমর্থকদের মনে তাজা। ট্রফি হাতছাড়া হওয়ার সেই দগদগে ঘা বুকে নিয়েই এবার আরও একটি মেগা ফাইনালে মুখোমুখি হতে চলেছে দুই প্রধান। আইএফএ (IFA) শিল্ডের এই ফাইনালে কেবল ট্রফি জয়ই লক্ষ্য নয়, বরং ডুরান্ডের বদলা নিয়ে নতুন মরশুমের আগে নিজেদের সম্মান ও আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার বড় সুযোগ মোহনবাগানের সামনে।
কাগজ-কলমে এবং সাম্প্রতিক ফর্মের বিচারে অবশ্য কিছুটা এগিয়ে লাল-হলুদ শিবির। সেমিফাইনালে নর্থইস্ট ইউনাইটেডকে ৭-২ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে রয়েছে ইস্টবেঙ্গল। অন্যদিকে, সেমিফাইনালে পাঞ্জাব এফসি-র বিরুদ্ধে ১২০ মিনিট লড়াই করেও গোল করতে ব্যর্থ হয়েছিল মোহনবাগান; শেষ পর্যন্ত গোলরক্ষক বিশাল কাইথের জাদুকরী পারফরম্যান্সে টাইব্রেকারে জয় পেয়ে ফাইনালে পৌঁছায় তারা।
তবে প্রতিপক্ষের ফর্ম বা পরিসংখ্যান নিয়ে একদমই মাথা ঘামাতে নারাজ মোহনবাগান কোচ পানোস। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, অন্য দল কী করল তাতে তাঁদের কিছু যায় আসে না। মাঠে ফুটবলাররা নিজেদের সেরাটা দিতে পারছেন কি না, সেটাই আসল কথা। ডুরান্ডের হারকে ‘প্রতিশোধ’ হিসেবে না দেখলেও ডার্বির আবেগ ও গুরুত্বকে মর্যাদা দিচ্ছেন কোচ। ক্লাবের সম্মান ও সমর্থকদের ভালোবাসার কথা মাথায় রেখে ফুটবলাররা যেন মাঠে নিজেদের সর্বস্ব উজাড় করে দেন, সেটাই তাঁর মূল বার্তা।
পাঞ্জাব এফসি ম্যাচে বলের দখল থাকলেও বিপজ্জনক আক্রমণ তৈরিতে খামতি ছিল। সেমিফাইনালের সেই ভুলত্রুটি শুধরে ফাইনালে আরও ধারালো, দ্রুত ও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার কৌশল সাজাচ্ছেন কোচ। একাধিক বৈঠকের মাধ্যমে আক্রমণভাগের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে।
পাশাপাশি জাতীয় দলের হয়ে ব্রাজিল, উরুগুয়ে ও পানামার মতো কঠিন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলে ফেরা তারকা ফুটবলারদের ফিটনেস নিয়ে চিন্তায় রয়েছে কোচিং স্টাফ। ডুরান্ড ফাইনালে ক্লান্তির যে খেসারত দিতে হয়েছিল, আইএফএ শিল্ডের লড়াইয়ে সেই ভুল আর করতে রাজি নয় মোহনবাগান ম্যানেজমেন্ট। সব মিলিয়ে, ট্রফি জয় ও সম্মান রক্ষার এই রোমাঞ্চকর মহা-লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা ময়দান।