‘ওয়েস্ট বেঙ্গল’ থেকে নাম বদলের উদ্যোগ: বিধানসভার পাশই কি যথেষ্ট, নাকি আসল চাবিকাঠি সংসদে?

‘ওয়েস্ট বেঙ্গল’ থেকে নাম বদলের উদ্যোগ: বিধানসভার পাশই কি যথেষ্ট, নাকি আসল চাবিকাঠি সংসদে?

ইংরেজিতে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল’-এর পরিবর্তে রাজ্যের নাম ‘পশ্চিমবঙ্গ’ করার উদ্যোগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। রাজ্য বিধানসভায় এই সংক্রান্ত প্রস্তাব পাশ করানোর তোড়জোর চললেও, কেবল বিধানসভার সম্মতিতে কোনো রাজ্যের নাম রাতারাতি পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। এর পেছনে রয়েছে ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত একটি নির্দিষ্ট ও দীর্ঘ আইনি পথ।

সংবিধানের ৩ নম্বর অনুচ্ছেদ ও ক্ষমতার বণ্টন ভারতীয় সংবিধানের ৩ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো রাজ্যের নাম পরিবর্তন, সীমানা পুনর্নির্ধারণ বা নতুন রাজ্য গঠনের চূড়ান্ত ক্ষমতা রাজ্য বিধানসভার নয়, বরং দেশের সংসদের হাতে ন্যস্ত। এই প্রক্রিয়ায় রাজ্য বিধানসভার ভূমিকা মূলত অনুমোদনকারী বা পরামর্শমূলক।

নাম পরিবর্তনের প্রতিটি আইনি ধাপ:

  • কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে প্রস্তাব প্রেরণ: সর্বপ্রথমে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বিধানসভায় পাশ হওয়া নাম পরিবর্তনের প্রস্তাবটি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে পাঠানো হয়।
  • বিভিন্ন কেন্দ্রীয় দপ্তরের ছাড়পত্র: প্রস্তাবটি পাওয়ার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক তা রেল, ডাক বিভাগ, সার্ভে অফ ইন্ডিয়া এবং রেজিস্ট্রার জেনারেল-সহ একাধিক কেন্দ্রীয় সংস্থার কাছে পাঠায়। ভৌগোলিক বা প্রশাসনিক ক্ষেত্রে কোনো জটিলতা রয়েছে কি না তা পর্যালোচনা করে সব দপ্তর থেকে অনাপত্তি বা ছাড়পত্র সংগ্রহ করা হয়।
  • রাষ্ট্রপতির সুপারিশ ও সংসদে বিল পেশ: সমস্ত পক্ষের কাছ থেকে সবুজ সংকেত পাওয়ার পর ফাইলটি রাষ্ট্রপতির কাছে যায়। রাষ্ট্রপতির আনুষ্ঠানিক সুপারিশ মেলার পরই দেশের সংসদে এই সংক্রান্ত বিল পেশ করা সম্ভব হয়।
  • সংসদে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা: লোকসভা এবং রাজ্যসভা— উভয় কক্ষেই সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় (Simple Majority) বিলটি পাশ হতে হয়।
  • সংবিধান সংশোধন ও সরকারি গেজেট: সংসদে বিল পাশ হওয়ার পর তা রাষ্ট্রপতির চূড়ান্ত সম্মতির জন্য পাঠানো হয়। রাষ্ট্রপতির অনুমোদন মিললেই সংবিধানের ‘প্রথম তফসিল’-এ (First Schedule) রাজ্যের নতুন নাম আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত হয় এবং নতুন নাম কার্যকর করা হয়।

অর্থাৎ, রাজ্য বিধানসভা নাম পরিবর্তনের সলতে পাকালেও চূড়ান্ত রূপ দেওয়ার ক্ষমতা ও আইনি চাবিকাঠি রয়েছে কেবল কেন্দ্রের সংসদের হাতেই।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *