‘ভারতের মানুষের বিরুদ্ধে অপরাধ হচ্ছে!’ স্টারলিঙ্ক বিতর্কে মাস্কের তোপ, পাল্টা কড়া জবাব কেন্দ্রের

‘ভারতের মানুষের বিরুদ্ধে অপরাধ হচ্ছে!’ স্টারলিঙ্ক বিতর্কে মাস্কের তোপ, পাল্টা কড়া জবাব কেন্দ্রের

ভারতে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা ‘স্টারলিঙ্ক’ (Starlink) চালুর প্রশাসনিক জট কাটার নামই নিচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে দেশের কয়েকজন প্রভাবশালী শিল্পপতির দিকে সরাসরি আঙুল তুললেন স্পেস-এক্স ও টেসলা প্রধান এলন মাস্ক। তাঁর বিস্ফোরক অভিযোগ, নিজস্ব বাণিজ্যিক স্বার্থ ও বাজারে একচেটিয়া আধিপত্য ধরে রাখতেই কতিপয় ‘অলিগার্ক’ বা প্রভাবশালী ব্যক্তি ভারতে স্টারলিঙ্কের প্রবেশাধিকার পরিকল্পিতভাবে আটকে রেখেছে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (পূর্বতন টুইটার) ভারতের গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে ব্রডব্যান্ড পরিষেবার অভাব সংক্রান্ত একটি পরিসংখ্যান প্রকাশ পায়। সেই পোস্টের সূত্র ধরেই ক্ষোভ প্রকাশ করে মাস্ক মন্তব্য করেন, “দুর্ভাগ্যবশত, ভারতীয়দের ওপর নিজেদের একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখতে কিছু অলিগার্ক আমাদের পথ আটকে রেখেছে। আপনারা নিশ্চয়ই আন্দাজ করতে পারছেন তাঁরা কারা… এটি ভারতীয় জনগণের বিরুদ্ধে এক ধরনের অপরাধ!” মাসের পর মাস ধরে ভারতে পরিষেবা চালুর জন্য প্রয়োজনীয় সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স ও সরকারি ছাড়পত্রের অপেক্ষায় থাকা স্টারলিঙ্ক প্রধানের এই মন্তব্যে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়।

তবে মাস্কের এই ক্ষোভ প্রকাশের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা জবাব দিয়ে সব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (PIB)-র এক বিবৃতিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, মাস্কের দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, অসত্য ও বিভ্রান্তিকর।

কেন্দ্রীয় সরকারের সাফাই, ভারতে স্যাটেলাইট ব্রডব্যান্ড পরিষেবা সংক্রান্ত টেলিকম নীতি অত্যন্ত নিরপেক্ষ, সর্বজনীন এবং সম্পূর্ণ স্বচ্ছ। দেশীয় সুরক্ষার স্বার্থে নির্দিষ্ট সুনির্দিষ্ট শর্ত ও নিয়মাবলী মেনেই প্রতিটি সংস্থাকে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগোতে হয়। স্টারলিঙ্কের ক্ষেত্রেও সেই একই স্বাভাবিক আইনি প্রক্রিয়া চলছে, এখানে কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর একচেটিয়া প্রভাব বা মনোপলি বজায় রাখার কোনো সুযোগ নেই।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *