আইআইটি ছেড়ে অভিনয়ের মঞ্চে, নানা পাটেকরের সঙ্গে বিচ্ছেদহীন দূরত্ব: নীলকান্তির অদম্য জীবনগাথা

প্রবীণ অভিনেতা নানা পাটেকরের প্রয়াণের পর থেকে চলচ্চিত্র দুনিয়া ও অনুরাগীদের চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন তাঁর স্ত্রী নীলকান্তি পাটেকর। কেবল নানা পাটেকরের স্ত্রী হিসেবেই নন, মারাঠি থিয়েটার ও চলচ্চিত্রের একজন অসামান্য ও গুণী অভিনেত্রী হিসেবে তাঁর নিজস্ব একটি শক্তিশালী পরিচয় রয়েছে। যদিও সংসার এবং সন্তানকে সামলাতে একসময় অভিনয়ের মূল স্রোত থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন তিনি।
দীর্ঘ বিরতির পর ২০২৫ সালে ভিকি কৌশল অভিনীত ‘ছাবা’ ছবিতে ‘ধারায়ু’ চরিত্রে অভিনয় করে আবারও নিজের জাত চিনিয়েছেন নীলকান্তি। নানা পাটেকরের সঙ্গে তাঁর দাম্পত্য জীবন বরাবরই সাধারণ মানুষের কাছে গভীর কৌতূহলের বিষয় ছিল। বৈবাহিক সম্পর্কে টানাপোড়েন ও দীর্ঘদিন আলাদা থাকার পরেও তাঁদের মধ্যে কখনো আনুষ্ঠানিক আইনি বিচ্ছেদ ঘটেনি।
পুণের এক মধ্যবিত্ত পরিবারে নীলকান্তির জন্ম। তাঁর বাবা ছিলেন কেন্দ্রীয় আবগারি দফতরের কর্মী। বাবার বদলির চাকরির সূত্রে দেশের একাধিক শহরে কেটেছে তাঁর শৈশব ও কৈশোর। পদার্থবিদ্যায় স্নাতক হওয়ার পর বাবার ইচ্ছেতেই আইআইটি-র প্রবেশিকা পরীক্ষায় অংশ নেন এবং সফলভাবে উত্তীর্ণ হন। কিন্তু মেধার ভিত্তিতে প্রকৌশলী হওয়ার সুবর্ণ সুযোগ থাকা সত্ত্বেও, থিয়েটারের প্রতি চরম অনুরাগের কারণে তিনি বেছে নেন অভিনয়ের পথ।
অভিনয়ের সূচনা হয়েছিল শিশুশিল্পী হিসেবে, ১৯৬৬ সালে। পরবর্তীতে ১৯৭৩ সালে মহারাষ্ট্র স্টেট ড্রামা কম্পিটিশনে সেরা অভিনেত্রী হিসেবে তিনি স্বর্ণপদক পান। ১৯৮৯ সালে ‘আত্মবিশ্বাস’ মারাঠি ছবিতে অসাধারণ অভিনয়ের জন্য মহারাষ্ট্র সরকারের কাছ থেকে লাভ করেন সেরা অভিনেত্রীর স্বীকৃতি।
মারাঠি থিয়েটারে অভিনয় করার সময়ই নানা পাটেকরের সঙ্গে নীলকান্তির পরিচয়। তখন নীলকান্তি একটি ব্যাংকের চাকরির পাশাপাশি সমান তালে অভিনয় চালিয়ে যাচ্ছিলেন। ১৯৭৮ সালে ২৭ বছর বয়সী নানা পাটেকরের সঙ্গে তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তবে দাম্পত্যের শুরুতেই নেমে আসে চরম ট্র্যাজেডি; শৈশবেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে তাঁদের প্রথম সন্তান। পরবর্তীতে তাঁদের কোল আলো করে আসে দ্বিতীয় সন্তান মালহার।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের সম্পর্কের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হতে থাকে এবং তাঁরা আলাদা থাকতে শুরু করেন। নানার সঙ্গে অন্যান্য অভিনেত্রীদের সম্পর্কের গুঞ্জন নীলকান্তি মেনে নিতে পারেননি বলেই ধারণা করা হয়। তবে মতপার্থক্য সত্ত্বেও তাঁরা কোনোদিন আইনি বিচ্ছেদের পথে হাঁটেননি এবং ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে দু’জনেই জনসমক্ষে সবসময় শালীনতা বজায় রেখেছেন।
যে অভিনয়ের টানে তিনি ক্যারিয়ারের উজ্জ্বল পথ বেছে নিয়েছিলেন, দীর্ঘদিন পর্দার অন্তরালে থাকলেও ‘ছাবা’ ছবির মাধ্যমে তাঁর বলিষ্ঠ প্রত্যাবর্তন প্রমাণ করেছে তাঁর অভিনয় দক্ষতাকে। নানা পাটেকরের মৃত্যুর পর আজ কেবল একজন তারকার স্ত্রী হিসেবে নয়, বরং স্বাবলম্বী ও গুণী শিল্পী হিসেবেও নিজের যোগ্য মহিমায় ভাস্বর নীলকান্তি পাটেকর।