সংগ্রাম থেকে সাম্রাজ্য: রাস্তায় পোস্টার আঁকা সেই ছেলেটি কীভাবে হলেন ৮০ কোটির মালিক ও কৃষকদের ‘মসিহা’?

সংগ্রাম থেকে সাম্রাজ্য: রাস্তায় পোস্টার আঁকা সেই ছেলেটি কীভাবে হলেন ৮০ কোটির মালিক ও কৃষকদের ‘মসিহা’?

হিন্দি ও মারাঠি চলচ্চিত্রের খ্যাতনামা অভিনেতা নানা পাটেকরের জীবন একাধারে কঠিন সংগ্রাম, অসাধারণ সাফল্য এবং নিঃস্বার্থ মানবসেবার অনন্য উদাহরণ। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে রুপোলি পর্দায় দাপুটে অভিনয়ের মাধ্যমে কোটি কোটি দর্শকের মন জয় করার পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনে তিনি এক অসাধারণ মানবিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে স্থান করে নিয়েছেন।

শৈশবের অনটন ও সাফল্যের শিখর

১৯৫১ সালের ১ জানুয়ারি মুম্বাইয়ে জন্ম নেওয়া নানা পাটেকরের শৈশব কেটেছে চরম আর্থিক অনটনে। বাবা দিনকর পাটেকরের টেক্সটাইল পেইন্টিংয়ের ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেলে পরিবারের হাল ধরতে একসময় রাস্তায় জেব্রা ক্রসিং ও সিনেমার পোস্টার রং করার কাজ বেছে নিতে হয়েছিল তাঁকে। তবে অদম্য ইচ্ছা এবং অসাধারণ অভিনয় প্রতিভার জোরে সব বাধা অতিক্রম করে বলিপাড়ায় নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন তিনি। ‘ক্রান্তিবীর’, ‘তেরঙা’ কিংবা ‘অব তক ছপ্পন’-এর মতো কালজয়ী সিনেমা আজও তাঁর অভিনয় দক্ষতার স্বাক্ষর বহন করে।

সম্পত্তির পরিমাণ ও খতিয়ান

দীর্ঘ অভিনয় জীবনে অর্জিত তাঁর মোট সম্পত্তির আনুমানিক মূল্য প্রায় ৮০ কোটি টাকা। তাঁর উল্লেখযোগ্য স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির তালিকায় রয়েছে:

  • পুনের খাদকওয়াসলা: ২৭ একর জমির ওপর নির্মিত বিশাল একটি ফার্মহাউস।
  • গোয়া: একটি অভিজাত ও বিলাসবহুল ফ্ল্যাট।
  • পুনে: ল কলেজ রোডে অবস্থিত নিজস্ব বাসভবন।
  • মুম্বাই: একটি ১ বিএইচকে (1 BHK) ফ্ল্যাট।

কৃষকদের ‘মসিহা’ ও অনাড়ম্বর জীবন

বিপুল বিত্তবৈভবের মালিক হলেও নানা পাটেকর সবসময় সাদামাটা জীবনযাপন পছন্দ করেন। জীবনের বড় একটি সময় তিনি কাটান পুনের ফার্মহাউসে, যেখানে নিজেই সরাসরি কৃষিকাজে হাত লাগান। মহারাষ্ট্রের খরা ও জলসংকটের দিনে দুস্থ কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে সহ-অভিনেতা মকরন্দ আনাসপুরের সঙ্গে যৌথভাবে গড়ে তোলেন ‘নাম ফাউন্ডেশন’ (NAAM Foundation)। এমনকি নিজের পছন্দের গাড়ি কেনার জন্য জমানো প্রায় দেড় কোটি টাকাও তিনি তুলে দিয়েছিলেন অসহায় কৃষক পরিবারের হাতে। কৃষক আত্মহত্যা রোধ এবং দরিদ্র পরিবারের মেয়েদের বিয়ের সহায়তায় তাঁর অবদান অতুলনীয়।

অভিনয় কুশলতার পাশাপাশি এক দরদী মানুষ ও কৃষকদের ‘মসিহা’ হিসেবে নানা পাটেকরের এই জীবনসংগ্রাম ও মহানুভবতা চিরকাল মানুষকে অনুপ্রাণিত করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *