ডেথ সার্টিফিকেট পেতে আর চরম ভোগান্তি নয়! বাড়িতে মৃত্যুর ক্ষেত্রে বড় নির্দেশিকা জারি রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের

হাসপাতালের বাইরে বা বাড়িতে স্বজনের মৃত্যু হলে ‘ডেথ সার্টিফিকেট’ (Death Certificate) জোগাড় করতে এতদিন হন্যে হয়ে ডাক্তার খুঁজতে হতো সাধারণ মানুষকে। আমজনতার সেই দীর্ঘদিনের হয়রানি ও ভোগান্তি কমাতে এক বড় সিদ্ধান্ত নিল পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর।
স্বাস্থ্য দফতরের তরফে নতুন নির্দেশিকা জারি করে জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করলে এখন থেকে হোমিয়োপ্যাথি এবং ভারতীয় চিকিৎসা পদ্ধতির (আয়ুষ) যোগ্য ও অনুমোদিত চিকিৎসকরাও ডেথ সার্টিফিকেট ইস্যু করতে পারবেন।
গত ৭ অক্টোবর রাজ্যের চিফ রেজিস্ট্রার অব বার্থস অ্যান্ড ডেথস তথা স্বাস্থ্য পরিষেবা অধিকর্তা এই সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন। রাজ্যজুড়ে যাতে এই নিয়ম একই পদ্ধতিতে কঠোরভাবে লাগু হয়, তা সুনিশ্চিত করতে সমস্ত জেলার রেজিস্ট্রার এবং পুরনিগমের মিউনিসিপ্যাল কমিশনারদের কাছে ইতিমধ্যেই এই নির্দেশ পাঠানো হয়েছে।
মূলত, ‘রেজিস্ট্রেশন অব বার্থস অ্যান্ড ডেথস (অ্যামেন্ডমেন্ট) রুলস ২০২৬’-এর রুল ৫(৪) এ-তে উল্লিখিত ‘ইন্ডিয়ান সিস্টেম অব মেডিসিন অ্যান্ড হোমিয়োপ্যাথি’-তে ‘অন্তত একটি ডিগ্রি’ থাকার বিষয়টি নিয়ে চিকিৎসকমহলে কিছুটা অস্পষ্টতা ও ধোঁয়াশা ছিল। নতুন বিজ্ঞপ্তিতে স্বাস্থ্য দফতর স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এই শব্দবন্ধকে আলাদা করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। ১৯৬৯ সালের রেজিস্ট্রেশন অব বার্থস অ্যান্ড ডেথস অ্যাক্টের ১০ নম্বর ধারা অনুযায়ী, যে সমস্ত হোমিয়োপ্যাথি ও আয়ুষ চিকিৎসকের স্বীকৃত ডিগ্রি রয়েছে এবং যারা রাজ্যের ‘স্টেট রেজিস্টারে’ বৈধভাবে নথিভুক্ত হয়ে চিকিৎসা করছেন, তারা প্রত্যেকেই রুল ৫(৪)-এর অধীনে মৃত্যুর শংসাপত্র দেওয়ার আইনি অধিকার রাখেন।
রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের এই স্পষ্টীকরণের ফলে দীর্ঘদিনের আইনি ধোঁয়াশা কেটে গেল। এর ফলে বাড়িতে কারও মৃত্যু হলে মৃত্যুর শংসাপত্র পাওয়ার প্রক্রিয়ায় যে অনাকাঙ্ক্ষিত বিলম্ব ও ভোগান্তি হতো, তা অনেকটাই দূর হবে বলে মনে করা হচ্ছে।