এক হাতে সর্বোচ্চ পদক, অন্য হাতে কড়া শাস্তির খাঁড়া: H-1B ভিসা কাণ্ডে মহা বিপাকে সত্য নাদেলা

একদিকে দেশের সর্বোচ্চ প্রযুক্তি সম্মান গ্রহণ, অন্যদিকে প্রশাসনের শীর্ষ স্তর থেকে কড়া আইনি নিষেধাজ্ঞা— দুই বিপরীত পরিস্থিতির মুখে পড়ে মার্কিন টেক জগতে চরম তোলপাড় সৃষ্টি করেছেন মাইক্রোসফটের সিইও সত্য নাদেলা।
সম্প্রতি ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্মানজনক ‘ন্যাশনাল মেডেল অব টেকনোলজি অ্যান্ড ইনোভেশন’ গ্রহণ করেন নাদেলা। স্পেসএক্সের ইলন মাস্ক, গুগলের সের্গেই ব্রিন, এনভিডিয়ার জেনসেন হুয়াং এবং এএমডির লিসা সু-এর মতো প্রবাসী প্রযুক্তিবিদদের পাশাপাশি সত্য নাদেলার বৈজ্ঞানিক ও কারিগরি অবদানকে সাধুবাদ জানান ট্রাম্প।
তবে এই সম্মাননা অনুষ্ঠানের আবহ কাটতে না কাটতেই এক বিস্ফোরক পরিস্থিতি তৈরি হয়। ট্রাম্পের সম্মান জানানোর ঠিক আগেই মার্কিন উপ-রাষ্ট্রপতি জে ডি ভেন্স এক সাংবাদিক সম্মেলনে মাইক্রোসফটের বিরুদ্ধে অভিবাসন আইন ও H-1B ভিসা নীতি লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ তোলেন। তিনি ঘোষণা করেন, দক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য গ্রিন কার্ড আবেদনের যে বিশেষ সরকারি সুবিধা রয়েছে, তা থেকে মাইক্রোসফটকে সাময়িকভাবে স্থগিত (সাসপেন্ড) করা হয়েছে।
উপ-রাষ্ট্রপতির অভিযোগ, গত বছর টেক জায়ান্টটি প্রায় ৬,০০০ মার্কিন কর্মীকে ছাঁটাই করার সমান্তরালে ৬,৩০০টি H-1B ভিসা এবং প্রায় ৩,০০০ গ্রিন কার্ড হাসিল করেছে। স্থানীয় মার্কিন নাগরিকদের কাজ থেকে ছাঁটাই করে সস্তায় বিদেশি কর্মী বা “বন্ডেড লেবার” দিয়ে কাজ চালানো ট্রাম্প প্রশাসন বরদাস্ত করবে না বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়।
প্রশাসনের এই আক্রমণের জবাবে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে মাইক্রোসফট। এক বিবৃতির মাধ্যমে সংস্থাটি জানায়, তারা মার্কিন কর্মীবাহিনীর মেধার ওপর পূর্ণ আস্থাশীল। তাদের দাবি, গত অর্থবর্ষে জমা দেওয়া H-1B আবেদনগুলির প্রায় ৮০ শতাংশই ছিল সংস্থায় আগে থেকেই কর্মরত কর্মীদের ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধি বা কাজের ধরন পরিবর্তনের জন্য, নতুন কোনো কর্মী নিয়োগের জন্য নয়। এছাড়া যে সামান্য কয়েকজন নতুন কর্মীকে আনা হয়েছে, তাঁরা ইতিমধ্যেই আইনিভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছিলেন এবং তা মোট কর্মীবাহিনীর মাত্র এক শতাংশ। পাশাপাশি সমস্ত নিয়ম মেনে শিল্পের অন্যতম সর্বোচ্চ বেতন প্রদান করেই কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে বলে দাবি করে প্রতিষ্ঠানটি।
হোয়াইট হাউসের এক তরফ থেকে সর্বোচ্চ কারিগরি সম্মাননা এবং অন্য তরফ থেকে কড়া প্রশাসনিক কোপ— এই দুইয়ের যাঁতাকলে পড়ে এখন সিলিকন ভ্যালি জুড়ে তীব্র রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।