‘৫০ বছর আগে এমন হয়েছিল!’ যন্তর-মন্তরের আন্দোলন ঘিরে পুলিশি দমনপীড়ন নিয়ে শীর্ষ আদালতে বিস্ফোরক মেনকা

জরুরি অবস্থার আমলের কথা মনে করিয়ে দিল দেশের শীর্ষ আদালত। দিল্লির যন্তর-মন্তরে সিজেপির (CJP) প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘিরে ব্যাপক ধরপাকড়, ইন্টারনেট পরিষেবা স্থগিত রাখা এবং মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখার মতো নজিরবিহীন পদক্ষেপের বিরুদ্ধে রবিবার ছুটির দিনেও বসল সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ বেঞ্চ। শীর্ষ আদালতে সওয়াল করতে গিয়ে প্রবীণ আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী বলেন, ‘প্রায় ৫০ বছর আগে জরুরি অবস্থার সময় এমন মামলার শুনানি হয়েছিল।’
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে গত শনিবার সিজেপির ডাকে যন্তর-মন্তরে জমায়েত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগে শুক্রবার রাত থেকেই নজিরবিহীন কড়াকড়ি শুরু করে পুলিশ। ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার পাশাপাশি প্রায় ৪৫টির বেশি মেট্রো স্টেশন ও গণপরিবহণ রুখে দেওয়া হয়। এর জেরে সাধারণ মানুষকে চরম হয়রানির মুখে পড়তে হয়।
রবিবার বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনার বিশেষ বেঞ্চে এই মামলার শুনানি শুরু হয়। আদালতে সওয়াল করতে গিয়ে আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী বলেন, “এই মামলা শুধু কোনও রাজনৈতিক নেতা, ১০ জন সাংসদ বা ৩ জন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর মুক্তির লড়াই নয়। এটি সংবিধানের অধিকার রক্ষার লড়াই।” তিনি আরও জানান, ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় ঠিক কত রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক, আইনজীবী ও সাধারণ নাগরিককে আটক করা হয়েছে, তার সঠিক হিসাবও পাওয়া যায়নি।
আইনজীবীকে মারধরের অভিযোগ ও আদালতের প্রশ্ন
শুনানিতে আইনজীবী শাদান ফারাসত মারাত্মক অভিযোগ করে জানান, শনিবার প্রতিবাদ চলাকালীন তাঁকে খোদ পুলিশ মারধর করে এবং চলন্ত বাসে ছুড়ে ফেলে দেয়। এটি শুধু আইনজীবীদের অধিকার নয়, বরং প্রত্যেক নাগরিকের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার হরণের শামিল। পরিস্থিতিকে ‘দমনমূলক’ আখ্যা দিয়ে তিনি জানান, দেশ পুলিশি রাষ্ট্রের ঠিক এক ধাপ দূরে দাঁড়িয়ে রয়েছে।
অন্যদিকে, প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিবাল প্রশ্ন তোলেন, নির্দিষ্ট চার কিলোমিটার নিষিদ্ধ এলাকার বাইরে রেল স্টেশনের কাছ থেকেও কীভাবে লোকজনকে আটক করা হয় এবং কোন যুক্তিতে ইন্টারনেট ও মেট্রো পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়? আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণন অবিলম্বে সমস্ত ব্যারিকেড সরিয়ে অবাধ যাতায়াত এবং মেট্রো পরিষেবা পুরোপুরি চালুর নির্দেশ দেওয়ার আর্জি জানান।
মুক্তি পেলেন ধ্রুব রাঠী ও সিজেপি নেতারা
শনিবার যন্তর-মন্তরে পৌঁছানোর আগেই ফ্লাইট থেকে আটক করা হয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে, সহ-আহ্বায়ক সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রানকাকে। রবিবার বিশেষ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি, মধ্যরাতে মুক্তি পান জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠীও।
এদিকে, মৌখিকভাবে তোলা অভিযোগের ভিত্তিতে আদালত অবমাননার নির্দেশ দেওয়া যায় কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বেঞ্চ। পাশাপাশি, অতিরিক্ত তথ্য ও অভিযোগগুলি আনুষ্ঠানিকভাবে লিখিত আবেদনের মাধ্যমে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ বেঞ্চ। বর্তমানে দিল্লির যন্তর-মন্তর চত্বর শুনসান থাকলেও, এই আইনি লড়াই ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে শোরগোল পড়ে গেছে।