পুজোর আগেই বড় সিদ্ধান্ত! রাজ্য সরকারি কর্মীদের বদলি নিয়ে নবান্নের কড়া নির্দেশিকা

পুজোর আগেই বড় সিদ্ধান্ত! রাজ্য সরকারি কর্মীদের বদলি নিয়ে নবান্নের কড়া নির্দেশিকা

রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বদলি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে এবং প্রশাসনিক নিয়ম আরও সুনির্দিষ্ট করতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল নবান্ন। দুর্গাপূজোর আবহে জারি করা এক নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, সচিবালয়ে (Secretariat) কর্মরত কোনও কর্মীকে ডিরেক্টরেট বা আঞ্চলিক কার্যালয়ে পাঠানোর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দফতর আর একতরফা সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না। এই ধরনের যে কোনও বদলি বা রদবদলের আগে বাধ্যতামূলকভাবে কর্মীবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার দফতরে (PAR Department) পাঠাতে হবে এবং তাদের আগাম অনুমোদন নিতে হবে।

কী ছিল পুরনো বিতর্ক ও প্রথা?

সচিবালয়ের কর্মীদের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই একটি সাধারণ ক্যাডার (General Cadre) ব্যবস্থা চালু রয়েছে। এলডিএ (LDA/নিম্নবর্গের সহকারী) থেকে শুরু করে পদস্থ আধিকারিক—সকলেরই সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী এক সচিবালয় দফতর থেকে অন্য সচিবালয় দফতরে বদলি হওয়ার কথা।

তবে অতীতে বেশ কিছু ক্ষেত্রে এই নিয়ম ভেঙে কর্মীদের ‘ডিটেলমেন্ট’-এর অধীনে জেলা বা দূরবর্তী ব্লক অফিসে পাঠানো হয়েছিল। যদিও তাঁদের বেতনের অর্থ সচিবালয় থেকেই দেওয়া হতো, তবুও এই পদক্ষেপ নিয়ে কর্মী সংগঠনগুলির মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয়।

‘শাস্তিমূলক’ বদলির অভিযোগ

বিভিন্ন কর্মী সংগঠনের অভিযোগ ছিল, অনেক ক্ষেত্রে প্রশাসনিক প্রয়োজনের দোহাই দিয়ে রাজনৈতিক মতাদর্শ বা সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকা কর্মচারীদের অন্যায্যভাবে শাস্তিমূলক বদলি (Punitive Transfer) করা হতো। শাসক ও বিরোধী—উভয় শিবিরের কর্মী সংগঠনের নেতাদেরই এই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছিল। এর মধ্যে সবথেকে আলোচিত ঘটনা ছিল কলকাতা সচিবালয় থেকে কর্মচারীদের উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি অঞ্চলের সুদূর ব্লক অফিসে পাঠিয়ে দেওয়া। পরবর্তীতে প্রশাসনিক পরিবর্তনের পর অনেকে পুনরায় সচিবালয়ে ফেরত এলেও এই প্রথা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গিয়েছিল।

নতুন নির্দেশিকার বার্তা

নবান্নের সদ্য প্রকাশিত নির্দেশিকা স্পষ্ট করে দিল যে, সচিবালয়ের কর্মীদের অন্য কোনও ক্যাডার বা দূরবর্তী আঞ্চলিক দফতরে পাঠাতে হলে প্রশাসনিক নিয়মাবলি শতভাগ মেনে চলতে হবে। ইচ্ছামতো বদলির পথ বন্ধ করে প্রশাসনিক সংস্কার দফতরের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করায় কর্মচারীদের হয়রানি অনেকটাই কমবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *