‘এলাকায় যেন আর একটা জাহাজ বাড়ি না হয়!’ দুর্নীতি ও ঔদ্ধত্য নিয়ে কড়া বার্তা শুভেন্দুর

‘এলাকায় যেন আর একটা জাহাজ বাড়ি না হয়!’ দুর্নীতি ও ঔদ্ধত্য নিয়ে কড়া বার্তা শুভেন্দুর

রাজ্য রাজনীতিতে নন্দীগ্রাম বরাবরই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক কেন্দ্র। রাজনৈতিক গুরুত্বের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নজর সবসময়ই কেড়ে নেয় এখানকার দৃষ্টিনন্দন ‘জাহাজ বাড়ি’। তৃণমূল জমানায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী এজেন্ট তথা স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা শেখ সুফিয়ানের সেই প্রাসাদোপম বাড়িটি দেখতে আজও ভিড় জমান কৌতূহলী মানুষ। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই জৌলুস হারিয়ে একপ্রকার গুরুত্বহীন হয়ে পড়েছে সেই বাড়িটি।

এবার সেই ‘জাহাজ বাড়ি’র প্রসঙ্গটিকেই সামনে এনে দলের নেতাকর্মীদের কঠোরভাবে সতর্ক করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। স্পষ্ট ভাষায় তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, “কেউ এমন কোনও কাজ করবেন না যাতে সাধারণ মানুষ আঙুল তুলে বলতে পারে— এলাকায় আরও একটা জাহাজ বাড়ি তৈরি হয়েছে।”

সম্প্রতি উপনির্বাচনে রেকর্ড ব্যবধানে নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে জয়লাভ করার পর রবিবার দুর্গাপুজোর আগে রেয়াপাড়ার একটি শারদ অনুষ্ঠানে যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে স্থানীয় বাসিন্দাদের হাতে উপহার তুলে দেওয়ার পাশাপাশি বক্তব্যও রাখেন তিনি। নন্দীগ্রামের সঙ্গে নিজের গভীর সম্পর্কের কথা স্মরণ করে শুভেন্দু বলেন, “আমি আজীবন নন্দীগ্রামের ভোটার হয়ে থাকব এবং এখানকার মানুষের উন্নতিক্রমে কাজ করে যাব। নতুন বিধায়ক হাসিরানি রথ আপনাদের সেবিকা হিসেবে প্রতিটি দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচনী ইস্তাহারে যে সমস্ত প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, ধাপে ধাপে সেগুলির সবক’টি রক্ষা করা হবে।”

এর পরেই স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যদের উদ্দেশে জোরালো বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। অহংকার ও ঔদ্ধত্য পরিহার করার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, “সবসময় সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে চলুন। মনে রাখবেন, ঔদ্ধত্য বা অহংকার যেন আপনাদের গ্রাস না করে। কারও সঙ্গে এমন কোনও অন্যায় আচরণ বা দুর্নীতিমূলক কাজ করবেন না, যার জেরে মানুষ ফের বলতে বাধ্য হয় যে এলাকায় আরও একটি জাহাজ বাড়ি মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।”

রাজনৈতিক মহলের মতে, দুর্নীতির ও তোলাবাজির কালো টাকা দিয়ে তৈরি ওই জাহাজ বাড়ির উপমা টেনে পরোক্ষভাবে দলীয় স্তরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিই স্পষ্ট করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

উল্লেখ্য, অতীতে শেখ সুফিয়ানের এই তথাকথিত ‘জাহাজ বাড়ি’কে কেন্দ্র করে বিস্তর বিতর্ক দানা বেঁধেছিল। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির লাগাতার অভিযোগ ছিল যে, ব্যাপক তোলাবাজি ও দুর্নীতির কালো টাকায় ওই প্রকাণ্ড অট্টালিকা গড়ে তোলা হয়েছে। দুর্নীতির একাধিক অভিযোগে সিআইডি আধিকারিকরা একাধিকবার ওই বাড়িতে তল্লাশি চালালেও সুফিয়ানের নাগাল পাননি, কেবল পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অনেক তৃণমূল নেতাই রাতারাতি নিজেদের বিজেপি কর্মী হিসেবে জাহির করার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ। এই পরিস্থিতিতে দলের নেতাকর্মীদের প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর এই কঠোর সতর্কবার্তা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *