পুজোর আগেই শহরের ভোল বদলাতে কড়া নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর, কী পরিকল্পনা নবান্নের?

শারদোৎসবের প্রস্তুতি যখন প্রায় শেষ পর্যায়ে, তখনই নাগরিক পরিষেবার খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখতে প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী। পুজোর কয়েকটা দিন শহরের রাস্তায় নামবেন লক্ষ লক্ষ মানুষ। মণ্ডপ দর্শনের পাশাপাশি গঙ্গার ঘাটেও থাকবে উপচে পড়া ভিড়। এই পরিস্থিতিতে রাস্তার দুরবস্থা, নিরাপত্তার ঘাটতি কিংবা পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার মতো কোনও সমস্যা যাতে উৎসবের আনন্দে বাধা না হয়ে দাঁড়ায়, তা নিশ্চিত করতে উদ্যোগী হয়েছে প্রশাসন।
পুজো নিয়ে বিরাট পরিকল্পনা মুখ্যমন্ত্রীর
পুজোর প্রস্তুতি পর্যালোচনা করতে পুরসভা, কর্পোরেশন ও বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার কর্তাদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। পুজোর সময়ে রাস্তাগুলিতে গাড়ি ও পথচারীদের চাপ অনেকটাই বেড়ে যায়। তাই উৎসব শুরু হওয়ার আগেই ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাগুলিকে অবিলম্বে চলাচলের উপযোগী করে তোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গঙ্গার ঘাটে দুর্ঘটনা এড়াতে নেওয়া হয়েছে আগাম প্রস্তুতি। পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলিকে নিজেদের মধ্যে সমন্বয় রেখে নিরাপত্তার ব্যবস্থা কঠোর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঘাটে পর্যাপ্ত আলো, নিয়মিত নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো প্রস্তুত রাখার বিষয়টি বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
দুর্গাপুজো মানেই আলোর রোশনাইয়ে কলকাতার চেনা ছবির রূপ বদল। সেই আবহকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা ও প্রবেশপথগুলিতে বিশেষ আলোকসজ্জার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কলকাতার পাশাপাশি নিউ টাউনের বিভিন্ন এলাকাকেও সুন্দর করে সাজিয়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, বড় রেলস্টেশন, মেট্রো স্টেশন এবং বিমানবন্দরের প্রবেশপথগুলিতেও বিশেষ আলোর ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে শহরে পা রাখা মাত্রই মানুষ উৎসবের পরিবেশ অনুভব করতে পারেন।
এই কাজে কেবল সরকারি সংস্থার উপর নির্ভর করতে চাইছে না প্রশাসন। বরং বেসরকারি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, শপিং মল, হোটেল ও শিল্প সংস্থাগুলিকেও নিজেদের ভবন এবং আশপাশের চত্বর আলোকিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
দুর্গাপুজোর দিনগুলিতে শহরের স্বাভাবিক জনজীবন সচল রেখেই বিপুল জনস্রোত সামলাতে হয় প্রশাসনকে। যান চলাচল, রাস্তার বেহাল দশা, ঘাটের নিরাপত্তা এবং পরিচ্ছন্নতা—প্রতিটি ক্ষেত্রেই আগাম প্রস্তুতির প্রয়োজন। সেই কথা মাথায় রেখেই পুজোর আগে একাধিক নাগরিক সমস্যা নিয়ে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করে কাজের গতি আরও বাড়ানোর কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।